উদ্ধার হওয়া ২৮ গরু নিয়ে বিপাকে পুলিশ

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন অভিযান ও অভিযোগের ভিত্তিতে উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু গরু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। উদ্ধারকৃত এসব গরুর প্রকৃত মালিকদের সন্ধান না পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে সেগুলো লালন-পালন ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে পুলিশকে। যাতে প্রতিদিন সরকারের প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।
এ অবস্থায় আর্থিক ক্ষতি ও রক্ষণাবেক্ষণের জটিলতা এড়াতে সংশ্লিষ্ট মামলা ও জিডিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছে থানা পুলিশ।
মেহেন্দিগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং একটি মামলার বিপরীতে বিভিন্ন সময় মোট ৩৩টি গরু উদ্ধার করা হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি জিডির ভিত্তিতে উদ্ধার হওয়া ২৯টি গরুর মধ্য থেকে একটির প্রকৃত মালিক শনাক্ত হওয়ায় সেটি ইতোমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে একটি মামলার আলামত হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছিল চারটি গরু, যার মধ্যে একটি গরু অসুস্থতা ও পর্যাপ্ত পরিচর্যার অভাবে মারা গেছে। ফলে বর্তমানে মোট ২৮টি গরুর কোনো প্রকৃত মালিকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, বর্তমানে এই ২৮টি গরুর মধ্যে ২৬টি গরু স্থানীয় খামারিদের জিম্মায় রেখে পরিচর্যা ও লালন-পালনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। এছাড়া থানার কম্পাউন্ডে থাকা বাকি গরুগুলোর দেখভালের জন্য আরেকজন খামারিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যার পেছনে প্রতিদিন আরও দেড় থেকে দুই হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে গরুর খাদ্য, চিকিৎসা ও পরিচর্যায় প্রতিদিন সরকারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অপচয় হচ্ছে।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মমিনউদ্দিন জানান, উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্ত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে যেসব গরুর মালিকানা দাবি করা হচ্ছে, তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই বিপুল সংখ্যক পশুপাখি সংরক্ষণ ও পরিচর্যা করা পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এতে সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়টিও জড়িত। তাই সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলও মনে করছেন, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত মালিকদের হাতে গরুগুলো তুলে দেওয়া গেলে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের অপচয় রোধ হবে, অন্যদিকে অবলা প্রাণীগুলোরও যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হবে।



