মৌলভীবাজারে ১০২২টি পূজামণ্ডপে চলছে দেবী বরণের প্রস্তুতি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার জেলার ১ হাজার ২২টি পূজামণ্ডপে চলছে দেবী বরণের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। ঢাক, ঢোল, শঙ্খ ও উলুধ্বনির মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন সনাতনী ভক্তরা।
জেলা পূজা উদযাপন কমিটি সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার জেলায় এবার সার্বজনীন ৮৯৮টি এবং ব্যক্তিগত ১২৪টিসহ মোট ১ হাজার ২২টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১১টি, বড়লেখায় ১৪৬টি, জুড়ীতে ৭৬টি, কুলাউড়ায় ২২৭টি, রাজনগরে ১৩৬টি, কমলগঞ্জে ১৫৪টি ও শ্রীমঙ্গলে ১৭২টি মণ্ডপ রয়েছে।
আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে এ দুর্গোৎসব। ইতোমধ্যে উৎসবকে ঘিরে জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের সৌন্দর্যবর্ধন ও প্রস্তুতিমূলক কাজ।
কমলগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রণীত রঞ্জন দেবনাথ জানান, সব জায়গাতেই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। মণ্ডপগুলোর সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও সার্বিক আয়োজনে বিরামহীনভাবে কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। পূজা উপলক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
মৌলভীবাজার জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মহিম দে বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা আয়োজনের লক্ষ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ইতোমধ্যে মতবিনিময় সভা সম্পন্ন করা হয়েছে।
দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, জেলার সব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, গুজব প্রতিরোধসহ পূজা-পূর্ববর্তী, পূজাকালীন এবং প্রতিমা বিসর্জন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবারও প্রতিটি মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ নিরাপত্তা দল দায়িত্ব পালন করবে।
