logo
Advertisement

রংপুর/চার খুনের আগে ১২ ঘণ্টায় ৩০ বার কথা হয় আসামিদের

এশিয়া পোস্ট নিউজ,রংপুর
চার খুনের আগে ১২ ঘণ্টায় ৩০ বার কথা হয় আসামিদের
খুন হওয়া চারজন ও অভিযুক্ত দুই আসামি। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাটি সুপরিকল্পিত হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। আসামিদের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে আসামিদের মধ্যে ৮০ বার ফোনালাপ হয়, যার মধ্যে কেবল হত্যাকাণ্ডের আগের ১২ ঘণ্টাতেই কল করা হয়েছে ৩০ বার।

Advertisement

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, পুলিশি তদন্তে ইয়াবা সেবনের উদ্দেশ্যে গিয়ে বাঁধা পেয়ে খুনের প্রাথমিক দাবি করা হলেও, ডোপ টেস্টে আসামিদের শরীরে কোনো মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ফলে চাঞ্চল্যকর এই চার খুনের নেপথ্য কারণ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ডিবি কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী জানান, ২২ আগস্ট সন্ধ্যা ৮টা থেকে পূর্ববর্তী ৮০ ঘণ্টার সিডিআর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের মধ্যে মোট ৮০ বার ফোনালাপ হয়েছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডের আগের ১২ ঘণ্টাতেই সিদ্ধার্থ তার দুটি নম্বর থেকে মুগ্ধর একটি নম্বরে ৩০ বার কল করেন।

তিনি আরও জানান, এই কলগুলো সবই ছিল সিদ্ধার্থের দিক থেকে করা এবং খুবই সংক্ষিপ্ত—যার স্থায়িত্ব ছিল ১৩, ১৫ ও ১৭ সেকেন্ডের মতো। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ একটি কলের স্থায়িত্ব ছিল ৯৬ সেকেন্ড। কথার ধরন ও পুনরাবৃত্তি বিশ্লেষণ করে ডিবি মনে করছে, এটি হঠাৎ ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়; এর পেছনে গভীর পূর্বপরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে তদন্তের স্বার্থে আসামিদের সঙ্গে অন্য কোনো বাইরের ব্যক্তির ফোনালাপের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপরাগতা প্রকাশ করেছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত ঘটনায় কেবল এই দুজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণই মিলেছে।

হত্যাকাণ্ডের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানিয়েছিল, আসামিরা ইয়াবা সেবনের জন্য গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে উঠেছিলেন। সেখানে গৃহকর্তা তাদের দেখে বাঁধা দিলে এই চার খুনের ঘটনা ঘটে এবং ঘটনার আগে-পরে আসামিরা মোট ৯টি ইয়াবা সেবন করেছিলেন। তবে আদালতের নির্দেশে রোববার (৩০ আগস্ট) রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে আসামিদের প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরীক্ষায় তাদের শরীরে কোনো মাদকের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানান ডিবি কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরিন বা প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে ঘটনার ৭ দিনের মধ্যে মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব। তবে আসামিদের গ্রেপ্তারের ৯ দিন পর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার কারণেই ফলাফলে মাদকের উপস্থিতি ধরা পড়েনি বলে ধারণা করছেন তারা।

এদিকে এই চার খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। তবে ইতোমধ্যে আসামিরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ায় এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে বিচারক ৩ দিনের বদলে ২ দিন (প্রতিদিন তিন ঘণ্টা করে) জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। রংপুরের চিফ মেটোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম এই আদেশ প্রদান করেন।

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় গত ২২ আগস্ট নিজ বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনায় সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসকে গ্রেপ্তার করা হলে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ঘটনার পর নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে নগরীর কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলাটি কোতোয়ালি থানা থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয় এবং তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে।

বিষয় :