চিকিৎসকের ওপর হামলা, টাঙ্গাইল মেডিকেলের জরুরি বিভাগে তালা

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এই ঘটনার পর থেকে হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জানা যায়, কর্তব্যরত অবস্থায় এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর রোগীর স্বজন বা বহিরাগতদের পক্ষ থেকে আকস্মিক হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার পরপরই ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন।
বিক্ষোভকারী ইন্টার্ন চিকিৎসক নার্গিস বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসকদের ন্যূনতম নিরাপত্তা নেই। রোগীর স্বজনরা ডাক্তারের ওপর হামলা করে, আমরা সেবা দিতে আসছি, কেন আমরা নির্যাতিত হব? অনতিবিলম্বে হামলাকারীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি ও আন্দোলন চালিয়ে যাব।
আরেক ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. জাকির হোসেন বলেন, দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসকদের ওপর হামলা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমরা রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছি। কোনো অভিযোগ বা ভুল বোঝাবুঝি থাকলে আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসকের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে জরুরি বিভাগ বন্ধ থাকায় হাসপাতালের সামনে শত শত রোগী ও তাদের স্বজনদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সাথে দফায় দফায় আলোচনা করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে চিকিৎসকরা পরে তালা খুলে দেন।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বজনরা চিকিৎসকের ওপর হামলা করে। এর প্রতিবাদে তারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলন করে এবং ইমার্জেন্সি বিভাগে তালা দেয়। তাৎক্ষণিকভাবে আমরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তালা খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করি। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

