শনিবার সিলেট যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, পুনর্খনন করবেন স্মৃতিবিজড়িত খাল

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২ মে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া খাল (নদী) পুনর্খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। একই স্থানে একসময় তার বাবা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কুদাল হাতে খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।
দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের মতে, বাবার শাহাদাতের ৪৫ বছর পর তার স্মৃতিবিজড়িত এই খাল পুনর্খনন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কান্দিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. আজম আলী (৭৪) জানান, তিনি নিজে জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তার সেই কর্মসূচি কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল। এখন তার সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একই স্থানে খাল খনন করতে দেখব,এটি আমার জন্য সৌভাগ্যের।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান মৃত্যুর কিছুদিন আগে দ্বিতীয়বার সিলেটে এসে বাসিয়া খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর এই কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং নদীটি আবার খালে পরিণত হয়। তারেক রহমান এ উদ্যোগ পুনরায় নেওয়ায় স্থানীয় কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় জনগণ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তারেক রহমানের প্রথম সিলেট সফর।
বুধবার তাকে স্বাগত জানিয়ে সিলেট নগরে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো মিছিল করে। জেলা ও মহানগর বিএনপি প্রস্তুতি সভাও করেছে।
সিলেট সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা রয়েছে।
সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস বলেন, দীর্ঘদিন সিলেটবাসী উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পের আওতায় সুরমা নদীর দুই তীরে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, স্লুইস গেট, ওয়াকওয়ে নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূচি অনুযায়ী, ২ মে সকালে সিলেটে পৌঁছে তিনি প্রথমে হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সুরমা নদীর তীরে একটি মেগা প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। পরে কান্দিগাঁওয়ে বাসিয়া খাল পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
বিকেলে রিকাবীবাজার জেলা স্টেডিয়াম থেকে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। দিনশেষে শাহী ঈদগাহ এলাকায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।