logo
Advertisement

নওগাঁয় চালের দাম ৩ মাস না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি মিল মালিকদের

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
নওগাঁ, রাজশাহী
নওগাঁয় চালের দাম ৩ মাস না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি মিল মালিকদের
নওগাঁয় ধান ও চালের মজুত এবং বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সভায় বক্তব্য রাখছেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

নওগাঁয় ধান ও চালের মজুত নিশ্চিতকরণ এবং বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অবৈধ মজুত কিংবা সিন্ডিকেট তৈরি করে বাজারে কৃত্রিম অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী তিন মাস কোনো ধরনের চালের দাম বাড়ানো হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মিলমালিক প্রতিনিধিরা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। সভায় অন্যদের মধ্যে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফরহাদ খন্দকার, ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ এবং জেলা মিলমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদারসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য দেন।

সভায় চলতি মৌসুমে আউশ ধানের দাম কমে যাওয়ার কারণ এবং তা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, এ মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি অর্থাৎ ৬৪ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ ধান উৎপাদিত হয়েছে। তবে দেশে প্রতিদিন ৭০ হাজার টন চালের চাহিদা রয়েছে। সভায় অটো ও হাস্কিং মিলমালিকদের সতর্ক করে তিনি বলেন, অতিরিক্ত ধান-চাল মজুত করে বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আলোচনায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফরহাদ খন্দকার ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে কিছু বিকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

তিনি জানান, সরকারি উদ্যোগে জিটুজি পদ্ধতিতে সরাসরি কৃষকের চাল রপ্তানির ব্যবস্থা করা গেলে কৃষকরা ধানের উপযুক্ত মূল্য পাবেন। এ ছাড়া ধান, গম ও ভুট্টার মতো কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ ফসল প্রক্রিয়াজাত করে বায়োফুয়েল (ইথানল ও মিথানল) এবং বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান উৎপাদনের লক্ষ্যে 'রাইস প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজ' গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি। একই সাথে সুগন্ধি চাল বিক্রির ক্ষেত্রে মিলার ও ব্যবসায়ীদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে মিলমালিকদের পক্ষে জেলা মিলমালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বাজারে ধানের দাম কম থাকার কারণ হিসেবে মোকামে কেনাবেচা কম থাকার কথা উল্লেখ করেন। তবে বাজারে স্বস্তি ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আগামী তিন মাস কোনো প্রকার চালের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নেই। যদি এই সময়ের মধ্যে কোনো ব্যবসায়ী অসাধু উপায়ে চালের দাম বাড়ায়, তবে প্রশাসন যে শাস্তি দেবে, তা তারা মাথা পেতে নেবেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নওগাঁর উপপরিচালক মো. মনজুর রহমানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মিলমালিক এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।