logo

ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডার, জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এলো মূল ঘটনা

ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডার, জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এলো মূল ঘটনা

ফরিদপুর সদর উপজেলায় দাদি, ফুপু ও প্রতিবেশীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ১০ ঘণ্টার মধ্যেই প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদালও উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত জিজ্ঞাসাবাদে মানসিক অস্থিরতা ও বিয়ে না দেওয়ায় ক্ষোভের কথা জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

এর আগে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গী গ্রামের আজগর মোল্লার বাড়ির উঠানে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন আমেনা বেগম (৭৫), তার মেয়ে রাহেলা বেগম (৫০) এবং প্রতিবেশী কাবুল (৪৫)।

পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নিহত কাবুল হোসেন (৪৯) বাড়িতে ফিরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে চা পান করতে বের হন। পথে রিয়াজুল মোল্লার সঙ্গে দেখা হলে তারা একসঙ্গে খুশির বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তারা গদাধরডাঙ্গী গ্রামের হারুন মোল্লার বাড়ির সামনে পৌঁছালে ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পান। স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলে তারা দেখতে পান আকাশ মোল্লা (২৮) তার দাদি ও ফুপুকে কোদাল দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করছে। এ সময় কাবুল হোসেন চিৎকার করলে আকাশ তার ওপরও হামলা চালায়। ঘটনাস্থলেই তিনজন গুরুতর জখম হয়ে মারা যান। হামলায় রিয়াজুল মোল্লা (৩৬) ও আর্জিনা বেগম (৪৫) গুরুতর আহত হন। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আকাশ নিহত আমেনা বেগমের নাতি। ঘটনার পরপরই সে পালিয়ে যায়। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ, ডিবি ও র‍্যাবের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে বাড়ির পাশের একটি কলাবাগান থেকে আকাশ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কোদাল উদ্ধার করা হয়, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত কাবুল হোসেনের স্ত্রী কহিনুর বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অভিযানে অংশ নেওয়া র‍্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের সহকারী পুলিশ সুপার গাজী মো. লুৎফর রহমান বলেন, অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালানো হয়। তাকে বাড়ির পাশের কলাবাগান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তার কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল, যা তার মানসিক অবস্থার বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবার তাকে বিয়ে না দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের মানসিক হতাশা থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে আকাশ। তবে তার মানসিক অবস্থা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। আকাশ জিজ্ঞাসাবাদে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। স্থানীয়দের কাছ থেকেও জানা গেছে, কিছুদিন ধরে তার আচরণ অস্বাভাবিক ছিল। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে যাচাই করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।