logo
Advertisement

শরতের শুভ্রতায় সেজেছে খাগড়াছড়ি, কাশবনে দর্শনার্থীদের ঢল

এশিয়া পোস্ট নিউজ,খাগড়াছড়ি
শরতের শুভ্রতায় সেজেছে খাগড়াছড়ি, কাশবনে দর্শনার্থীদের ঢল
শুভ্র কাশফুলের মাঝে ছবি তোলায় ব্যস্ত দর্শনার্থীরা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

শরতের আগমনে প্রকৃতির রূপ যেন বদলে গেছে। সবুজ পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে সাদা কাশফুলের দোলা। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির বিভিন্ন প্রান্তর, নদীর পাড়, জলাভূমি, পাহাড়ি গ্রামের উঁচু জমি ও সড়কের পাশে ফুটে থাকা কাশফুল জানান দিচ্ছে শরতের আগমনী বার্তা।

Advertisement

বিশেষ করে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ৮ মাইল এলাকায় রাস্তার পাশে ফুটে থাকা শুভ্র কাশফুল এখন পথচারী ও ভ্রমণপিপাসুদের দৃষ্টি কাড়ছে। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশের নিচে যেন সাদা মেঘ নেমে এসেছে পাহাড়ি মাটিতে। কাশফুলের এই শুভ্রতায় মুগ্ধ হয়ে নানা বয়সী মানুষ ছুটে আসছেন কাশবনে।

শরৎ এলেই বাংলার প্রকৃতি নতুন রূপে সেজে ওঠে। ভাদ্র-আশ্বিনের আকাশে মেঘের ভেলা আর বাতাসে দুলতে থাকা কাশফুল প্রকৃতিতে এনে দেয় ভিন্ন এক আবহ। ভ্যাপসা গরমের পর শরতের মিষ্টি বাতাসে কাশফুলের দোল প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে প্রশান্তি যোগাচ্ছে।

কাশফুল দেখতে আসা শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের দেখা মিলছে সড়কের পাশে। কেউ কাশফুল হাতে নিয়ে ছবি তুলছেন, আবার কেউ বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাশবনের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের কাছে এই কাশবন হয়ে উঠেছে ছবি তোলার দারুণ আকর্ষণীয় স্থান।

নগরজীবনের ব্যস্ততা ও যান্ত্রিকতা এড়িয়ে কিছুটা সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে এসব স্থানে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। খোলা আকাশ, সাদা মেঘ আর বাতাসে দুলতে থাকা শুভ্র কাশফুল—সব মিলিয়ে খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের পাশের দৃশ্যটি যেন প্রকৃতির এক অনন্য কাব্য।

কাশফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে আসা জয়ন্তী দেওয়ান জানান, সাধারণত পাহাড়ে কাশফুল তেমন একটা চোখে পড়ে না। তবে এবার জুম পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে কাশফুলের সৌন্দর্য সবার নজর কাড়ছে। তাই বন্ধুদের নিয়ে প্রকৃতির এই সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি ছবি তুলতে এসেছেন তিনি। আকাশের এক টুকরো মেঘ যেন কাছ থেকে ছুঁতে পারার অনুভূতির কথা জানান তিনি।

আরেক পর্যটক ফারহানা আক্তার বলেন, শরৎ এলেই খাগড়াছড়ির পাহাড়ি প্রকৃতি নতুন রূপ ধারণ করে, আর কাশফুলের শুভ্রতা সেই সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ। তাই পরিবার নিয়ে এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে এসেছেন তিনি।

প্রকৃতিপ্রেমী ও খাগড়াছড়ির ‘হিল অর্কিড সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা সাথোয়াই মারমা বলেন, শরতের কাশফুল খাগড়াছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি ও শুভ্র কাশফুলের এই অপূর্ব মেলবন্ধন দেখতে প্রতিবছরই মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। তবে এই সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্বও নিতে হবে। কাশবনসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের স্থানগুলোতে যত্রতত্র ময়লা না ফেলে এবং গাছপালা ও পরিবেশের ক্ষতি না করে সবাইকে সচেতনভাবে সৌন্দর্য উপভোগ করার আহ্বান জানান তিনি।

শরতের এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই বাড়ছে মানুষের সমাগম। প্রকৃতির এই শুভ্র আয়োজন যেন বর্ষাকে বিদায় জানিয়ে ধীরে ধীরে শীতকে আমন্ত্রণ জানানোর এক নীরব বার্তা।