হাসনাতের আসনে নতুন সমীকরণ, ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শেষ মুহূর্তে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের নির্বাচনি সমীকরণে নতুন মোড় নিয়েছে। ঋণখেলাপির অভিযোগে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্রুজুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় দলটির পক্ষ থেকে গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিনকে (ট্রাক প্রতীক) সমর্থন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আসনটিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবদুল করীমের জোরালো প্রচারণা এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর শক্ত অবস্থানের কারণে ত্রিমুখী লড়াইয়ের জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, দলের উচ্চপর্যায়ের মৌখিক নির্দেশনায় ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের পক্ষে কাজ শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। ঋণখেলাপির অভিযোগে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার পর দলটি কার্যত প্রার্থীশূন্য হয়ে পড়ে। পরে জোটগত সিদ্ধান্তে জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দেওয়া হয়।
জসিম উদ্দিন বলেন, বিএনপির সমর্থন তার প্রচারণায় নতুন গতি এনেছে। দেবীদ্বারকে বিএনপির ঘাঁটি উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সাধারণ ভোটারদের সমর্থন সুসংহত করা সম্ভব হবে। যদি তারা শেষ পর্যন্ত আমার সঙ্গে থাকেন তাহলে আমিই বিজয়ী হব।
অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। শুরুতে তাকে এককভাবে শক্ত অবস্থানে দেখা গেলেও নতুন সমীকরণে ভোটের লড়াই জমে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বিশ্লেষকরা।
শাপলা কলির প্রচারে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমার সঙ্গে কোনো চাঁদাবাজ-ধান্দাবাজ নেই। তাই আমার কোনো দোষ নেই। এখন নতুন একটি দোষ হয়েছে, একবার পাস করলে নাকি ২০ বছর আর সরানো যাবে না। এটা নাকি আমার দোষ। মানুষ যদি আমাকে রাখতে চায়, সেক্ষেত্রে জোর করে সরাতে হবে কেন।
এ পরিস্থিতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল করীমও জোরালো প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল করীম বলেন, দেবীদ্বারের মানুষ পরিবর্তন চায়। আমরা আদর্শিক রাজনীতি ও সুশাসনের বার্তা নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। তার দাবি, সাধারণ ও ধর্মপ্রাণ ভোটারদের বড় অংশ হাতপাখার পক্ষে সাড়া দিচ্ছেন।
দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজের প্রভাষক সাইফুল ইসলাম বলেন, বিএনপির সমর্থনে ট্রাক প্রতীক শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করলেও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আবদুল করীম এবং এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ এই তিন প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।
ব্যবসায়ী মোজাম্মেল বলেন, নির্বাচনের বাকি সময়টুকুতে মাঠের প্রচারণা ও ভোটার উপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। হাতপাখা, ট্রাক ও শাপলা কলির মধ্যে চলবে লড়াই।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টায় প্রচার-প্রচারণা শেষ হবে। শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় দেবীদ্বার এখন সরগরম।