logo

কারখানা ভাঙচুর শ্রমিকদের, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত অর্ধশত

কারখানা ভাঙচুর শ্রমিকদের, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত অর্ধশত

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে কর্মবিরতি রেখে বিক্ষোভ ও কারখানায় ভাঙচুর করেছে আহসান কম্পোজিট কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ দীঘির পাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই কারখানার ৯ কর্মকর্তা, পুলিশ ও শ্রমিকসহ প্রায় অর্ধশত লোক আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলার বিভিন্ন হাসপতালে ভর্তি করা হয়। 

কারখানা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে বাৎসরিক ছুটির টাকার স্লিপ বিতরণ করা হয়। শ্রমিকরা শতভাগ বাৎসরিক ছুটির টাকা পরিশোধের দাবি জানিনে সকাল ৮টার দিকে কর্মবিরতি রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে কারখানার অফিসকক্ষ ভাঙচুর করেন। অফিসের দরজা-জানালা, টেবিলসহ কয়েকটি কম্পিউটার ও ল্যাপটপ ভাঙচুর করা হয়। 

এ সময় অফিসকক্ষে থাকা কারখানার প্রোডাকশন ম্যানেজার মাজহারুল ইসলাম, সহকারী প্রোডাকশন ম্যানেজার নুরন নবী ও আলতাফ হোসেনসহ ৯ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে শিল্প পুলিশ আসলে তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন শ্রমিকরা। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে কয়েকটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

এ সময় শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হন। পরে খবর ঘটনাস্থলে আরও শিল্প পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কারখানার অ্যাডমিন কর্মকর্তা জামাল হোসেন বলেন, শ্রমিকরা সকালে বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে হঠাৎ কর্মবিরতি রেখে আন্দোলন শুরু করেন। শ্রমিকদের বুঝিয়ে কাজে যোগদান করতে বললে তারা আরও চড়াও হয়ে অফিসকক্ষ ভাঙচুর করেন। এ সময় অফিসকক্ষের কয়েকটি কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ও থাই গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের ৯ কর্মকর্তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন। 

কারখানার শ্রমিক রাব্বি হাসান বলেন, আমাদের পাওনা টাকা না দিয়ে তারা শুধু তালবাহানা করে যাচ্ছে। টাকা চেয়ে না পেয়ে আমরা আন্দোলন করছিলাম। হঠাৎ কারখানার মালিকপক্ষ এসে আমাদের ওপর হামলা করে। তাহলে কি আমাদের পাওনা টাকা চাওয়া অপরাধ। 

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, ওই কারখানায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমাদের পুলিশ সদস্যরা সেখানে যান। পরে শিল্প পুলিশের সহায়তা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

শিল্প পুলিশের ওসি মোরশেদ জামান বলেন, শ্রমিকরা সকাল থেকেই আন্দোলন করছেন। কয়েকবার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়। আমাদের কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।