Advertisement

যাত্রীছাউনিতে জন্ম নেওয়া নবজাতককে উদ্ধারের পরও বাঁচানো গেল না

এশিয়া পোস্ট নিউজ, বরিশাল
যাত্রীছাউনিতে জন্ম নেওয়া নবজাতককে উদ্ধারের পরও বাঁচানো গেল না
প্রতীকী ছবি

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর বাসস্ট্যান্ডের যাত্রীছাউনিতে জন্ম নেওয়া এক নবজাতককে প্রসবের দুই ঘণ্টা পর উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

Advertisement

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী সন্তান প্রসবের পর শিশুটি খোলা আকাশের নিচে সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়ে ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সকালে সন্তান প্রসবের খবর পেয়ে উৎসুক মানুষ ভিড় করলেও তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সময় কোনো প্রাথমিক চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় সুরক্ষা না পেয়ে সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে শিশুটি। পরে খবর পেয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং নিজের সরকারি গাড়িতে করে নবজাতককে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, জন্মের পরপরই প্রয়োজনীয় উষ্ণতা ও পরিচর্যার অভাব এবং প্রসবের পর দীর্ঘ সময় খোলা পরিবেশে ফেলে রাখার ফলে শিশুটির শরীরের তাপমাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় (হাইপোথারমিয়া)। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হতে পরবর্তী স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রয়োজন।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৮ বছর বয়সি ওই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন নারী দীর্ঘদিন ধরে রহমতপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তার পরিবার বা স্বজনদের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি। অত্যন্ত দুঃখজনক, একজন মানসিক ভারসাম্যহীন নারী প্রকাশ্যে সন্তান প্রসব করার পরও উপস্থিত কেউ দ্রুত প্রশাসন বা স্বাস্থ্য বিভাগকে জানাননি। দ্রুত যোগাযোগ করা হলে হয়তো শিশুটিকে বাঁচানো যেত।

ঘটনাস্থলে ইউএনওর সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মনিরুল ইসলাম এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। নবজাতকের মৃত্যুর পাশাপাশি ভুক্তভোগী ওই নারীকেও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে।

বিষয় :