logo

ভাঙারি দোকানে সরকারি ৮ হাজার বই, গোডাউন সিলগালা

ভাঙারি দোকানে সরকারি ৮ হাজার বই, গোডাউন সিলগালা

শেরপুরে এক ভাঙারির দোকানে মজুতকৃত ৮ হাজার সরকারি বই জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। রোববার (১ মার্চ) সন্ধ্যায় শহরের নওহাটার উত্তরা স্কুলের বিপরীত পাশ থেকে ভ্যানভর্তি এবং গোডাউন থেকে এসব বই জব্দ করা হয়। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেসার্স রোকেয়া আয়রন স্টোরের মালিক অপু ও তার ভাই শাহীন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে কমদামে সরকারি বই কেজি দরে কিনে অধিক লাভে বিক্রি করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (১ মার্চ) বিকেলে ভ্যানভর্তি ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের মাদ্রাসা বোর্ডের আনুমানিক ২৫০০ কপি বই মজুত করার উদ্দেশ্যে নিয়ে আসে। বিষয়টি স্থানীয়রা জেলা জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কর্মকর্তাদের জানালে তারা ঘটনাস্থলে এসে বইগুলো জব্দ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানান। 

পরবর্তীতে শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবা হকের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৫০০ কপি বই ও ভ্যান জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। একইসঙ্গে মেসার্স রোকেয়া আয়রন স্টোরে তল্লাশি করে ওই গোডাউনের ভেতরে প্রায় ৬ হাজার কপি ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিকের বই মজুত অবস্থায় জব্দ করে গোডাউনটা সিলগালা করা হয়।

এ বিষয়ে ভ্যানচালক তজি মিয়া বলেন, রোকেয়া আয়রন স্টোরের মালিকের ভ্যান দিয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলার আড়াইআনী বাজার ব্রিজ এলাকার সেলিম ভাঙারি দোকান থেকে বইগুলো আনা হয়েছে। তবে পুলিশ আসার পরে কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে ভ্যানচালক সরে যায়।

মেসার্স রোকেয়া আয়রন স্টোরের মালিক অপু মিয়া এসব বই তার নয় বলে জানিয়ে সেও গা-ঢাকা দেয়। পরবর্তীতে তার গোডাউন থেকে একই ধরনের বই পাওয়া যায়। 

স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিক আহমেদ বলেন, গত বছর বইয়ের সংকটের কারণে একেক শিক্ষার্থীকে ৩-৪টি করে বই দেওয়া হয়েছিল। অথচ এরাই নতুন বই লুকিয়ে রেখে দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।

এ বিষয়ে সদর থানার এসআই সুশান্ত বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্যানগাড়িসহ নতুন বইগুলো জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। ইউএনও গোডাউন সিলগালা করে দিয়েছেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা হক এশিয়া পোস্টকে বলেন, খবর পেয়ে ভ্যানগাড়ির বইগুলো জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাটি তদন্তে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।