পঞ্চগড়ে বিষাক্ত গ্যাসে শ্রমিকের মৃত্যু, ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে নবনির্মিত সেপটিক ট্যাংকে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে বাবুরাম দেবসিংহ (৩১) নামে এক রাজমিস্ত্রির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় চরম অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহতের চাচা বুদ্ধ চরণ দেবসিংহ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় দেবীগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা ইউনিয়নের অমরখানা জামুড়িতলী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। শুক্রবার বিকেলে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত বাবুরাম দেবসিংহ চিলাহাটি ইউনিয়নের বলরামপুর নিজধাম গ্রামের মৃত আর্যমোহন দেবসিংহের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। একই ঘটনায় গৌতম চন্দ্র রায় নামে আরও এক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপর শ্রমিক ভাগ্য রায় চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।
মামলার এজাহারে শালডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রাব্বি হোসেন (৩৮), বাবুল হোসেন (৪৪), জুয়েল ইসলাম (৩৩), উত্তম রায় (২৮), লাভলী বেগম (৪২), রানা সরকার (২৬), সাইফুল ইসলাম (২৭) ও মজিবুল ইসলাম (৫৪)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে রাব্বি হোসেন ও উত্তম রায় নামের দুই ব্যক্তি বাবুরামকে তাদের নবনির্মিত সেপটিক ট্যাংকের সংস্কারকাজের জন্য ডেকে নেন। দীর্ঘদিন ঢাকনা দিয়ে বন্ধ থাকায় ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে ছিল। কোনো ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা বা সতর্কতা ছাড়াই বাবুরামকে ট্যাংকের ভেতরে নামানো হয়। ভেতরে নামার পরপরই বিষাক্ত গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাকে উদ্ধারে তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে একপর্যায়ে ট্যাংকের ভেতরেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
পরে তার মরদেহ ট্যাংক থেকে বের করে অটোভ্যানে করে গ্রামের বাড়ির উঠানে রেখে সংশ্লিষ্টরা চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের চাচা ও মামলার বাদী বুদ্ধ চরণ দেবসিংহ বলেন, বাড়ির মালিক ও সংশ্লিষ্টদের চরম অবহেলা এবং সময়মতো উদ্ধার না করার কারণেই বাবুরামের মৃত্যু হয়েছে। তিনি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তবে মামলার প্রধান আসামি শালডাঙ্গা ইউপি সদস্য রাব্বি হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
বাড়ির মালিক নবির হোসেন জানান, তিনি ঢাকায় থাকেন এবং ঘটনার দিন বাড়িতে তার মা একা ছিলেন। তিনি বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে ওই শ্রমিকরাই সেপটিক ট্যাংকটি নির্মাণ করেছিলেন। জানালার কাজ শেষে হেড মিস্ত্রি উত্তম রায়ের নির্দেশে তারা সেন্টারিং খুলতে ট্যাংকের ভেতরে ঢোকেন। পরিবারের কেউ তাদের সেখানে নামতে বাধ্য করেনি। পরে মায়ের ডাকাডাকি শুনে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন।
এদিকে আহত শ্রমিক ভাগ্য রায় জানান, হেড মিস্ত্রি বাবুরাম ও গৌতমকে সেপটিক ট্যাংকের সেন্টারিং খুলতে বললে তারা ভেতরে ঢোকেন। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি নিজেও শ্বাস নিতে না পেরে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এর আগে তারা কেউ সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে সেন্টারিংয়ের কাজ করেননি বলেও জানান।
দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া বলেন, নিহতের চাচা বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অবহেলার অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


