মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ থেকেই আশুলিয়ার কারখানায় আগুনের সূত্রপাত

আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রীতি গ্রুপের ‘এস সূহী ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়েছে কারখানা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা সিলিন্ডার লরি থেকে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, সারিবদ্ধভাবে রাখা লরিগুলোর মধ্যে ৪ নম্বর লরিতে প্রথম বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন জানান, কারখানাটিতে তিতাসের গ্যাস সংযোগ থাকলেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় বিকল্প হিসেবে সিলিন্ডার লরি থেকে গ্যাস ব্যবহার করা হতো। এসব লরিতে থাকা সিলিন্ডারগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সিলিন্ডারের ভেতরের অতিরিক্ত চাপ বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ৪ নম্বর লরিতে বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে কাভার্ড ভ্যানের ওপরের অংশ ও সিলিন্ডারের খণ্ডাংশ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি একটি অংশ ছিটকে গিয়ে পাশের ডিইপিজেডের ১০ তলা ভবনের ছাদে গিয়ে পড়ে ও সিলিন্ডারের মূল সরবরাহ লাইনেও আগুন ধরে ছড়িয়ে যায়।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় খবর পেয়ে জিরাবো ও ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।
ঘটনাস্থলে লরির ভেতর থেকেই ৫ জনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। বিস্ফোরণের পর সিলিন্ডারের ছিটকে আসা অংশের আঘাতে রাস্তার পথচারী মোছাম্মত জয়নব বেগম (৫৫) নামের এক নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুলবুল নামের আরও একজন মারা গেলে মোট মৃতের সংখ্যা ৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
এ দুর্ঘটনায় প্রীতি গ্রুপের কারখানা প্রাঙ্গণে থাকা প্রায় ৮ থেকে ৯টি লরি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আনসার সদস্য, শ্রমিক ও পথচারীসহ ৪০ জনেরও বেশি মানুষ।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চলছে।