logo

বাবার ছবি ছুঁয়ে অঝোরে কাঁদছে অবুঝ সাদিয়া

বাবার ছবি ছুঁয়ে অঝোরে কাঁদছে অবুঝ সাদিয়া
বাবার ছবির ওপর হাত রেখে অঝোরে কাঁদছে ছোট্ট মেয়ে সাদিয়া। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বাবার ছবির ওপর হাত রেখে অঝোরে কাঁদছে ছোট্ট মেয়ে সাদিয়া। বাবাকে যে আর কখনো ফিরে পাওয়া যাবে না, তা হয়তো এখনো পুরোপুরি অনুধাবন করার বয়স হয়নি তার। তবে স্বজনদের আহাজারি আর চারপাশের শোকাচ্ছন্ন পরিবেশে বাবার ছবি ছুঁয়ে অবুঝ শিশুটির এই কান্না উপস্থিত সবাইকে অশ্রুসজল করে তুলছে।

কুমিল্লার দেবিদ্বারে বাঁশঝাড়ের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে দিনমজুর শফিকুল ইসলামকে (৪৫) নির্মমভাবে কুপিয়ে ও হাতুড়িপেটা করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বারুর গ্রামের খোদাইচর বটতলী বাজার এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মানববন্ধনে নিহতের স্বজনদের আহাজারিতে পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

নিহত শফিকুল ইসলাম বারুর গ্রামের এনু মেম্বারের বাড়ির মৃত মহাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দিনমজুরের কাজের পাশাপাশি বাঁশ ও বেত দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে বাজারে বিক্রি করতেন। এই সামান্য আয় দিয়েই চলত তার সংসার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির একটি বাঁশঝাড়ের মালিকানা নিয়ে শফিকুলের সঙ্গে একই গ্রামের লিমন (৪৭) ও তার স্বজনদের বিরোধ সৃষ্টি হয়। শফিকুল বাঁশ কাটতে গেলে লিমন এবং তাঁর ভাতিজা নিশাদ (২৬) বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে তর্কাতর্কি ও একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার সময় লিমন ও নিশাদ ঘর থেকে দা, ছুরি ও হাতুড়ি এনে শফিকুলের ওপর হামলা চালান। লিমন শফিকুলকে চেপে ধরেন এবং নিশাদ হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও দা দিয়ে কোপ দেন। পরে লিমন ছুরি দিয়ে শফিকুলের পেটে আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শফিকুলকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নার্গিস আক্তার বাদী হয়ে দেবিদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় লিমন, তাঁর ভাই নজরুল ইসলাম ও নজরুলের ছেলে নিশাদকে আসামি করা হয়।

দেবিদ্বার থানা-পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি লিমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন অপর আসামি নজরুল ইসলামকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তবে ঘটনার পর থেকে আরেক আসামি নিশাদ পলাতক রয়েছেন।

এদিকে, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. ময়নাল হোসেন, সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম, স্থানীয় বিএনপি নেতা কাইয়ুম, মাস্টার কাইয়ুম, হাজী জাকির হোসেন ও নিহতের স্ত্রী নার্গিস আক্তার।

মানববন্ধন শেষে উত্তেজিত জনতা লিমন ও নিশাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে বলে জানা গেছে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান এশিয়া পোস্টকে জানান, শফিকুল হত্যা মামলার তিন আসামির মধ্যে দুই আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ওসি আরও বলেন, স্থানীয়রা মানববন্ধনের মাধ্যমে তাদের দাবি জানিয়েছেন। তবে আসামিদের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি কাম্য নয়। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ বা মামলা দিলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।