২১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ৮ ফাল্গুন মাতৃভাষা দিবস পালনের প্রস্তাব মাসুদ সাঈদীর

বাংলা ভাষার প্রতি সম্মান জানিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারির বদলে ৮ ফাল্গুন মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা যায় কি না, তা সরকারকে ভেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) মাসুদ সাঈদী।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এ পরামর্শ দেন মাসুদ সাঈদী।
তিনি বলেন, আজকে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই দিবসে মূল প্রতিপাদ্য হওয়া উচিত, অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা এবং একুশ যে চেতনা আমাদের শিখিয়েছে, সেই চেতনাকে সব সময় ধারণ করা। আমরা প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করে থাকি। দিবসটি আলোচনা সভার মধ্যে থেকে যাচ্ছে, একুশের এই চেতনা আমরা সর্বস্তরে ধারণ করতে পারছি না। যেমন আমরা পালন করছি একুশে ফেব্রুয়ারি।
মাসুদ সাঈদী বলেন, আমরা জীবন দিলাম, রক্ত দিলাম বাংলা ভাষার জন্য। সেখানে হওয়ার কথা ছিল ৮ ফাল্গুন, কিন্তু এখনো পালন হচ্ছে ২১ ফেব্রুয়ারি। বর্তমান সরকার যেমন জনগণের ম্যান্ডেটেট এবং কাঙ্ক্ষিত একটি সরকার। আমি আশা করি- সরকার এই বিষয়টি ভেবে দেখবে; একুশে ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে আমরা যেন ৮ ফাল্গুন পালন করতে পারি। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর যে ব্যবস্থা, যেটি আমরা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আমলে দেখেছিলাম। সেটি প্রতিটি সরকারের আমলে শুধু বক্তব্য শুনি, কিন্তু সর্বস্তরের বাংলা ভাষা প্রচলন এখনও চালু হয়নি।
তিনি আরও বলেন, একুশ শুধু মাথা উঁচু করা শিখিয়েছে তা নয়, যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়াটাও শিখিয়েছে। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান—প্রত্যেকটির পেছনেই একুশের চেতনা কাজ করেছে। বিশেষ করে আমাদের এই মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ সহকারে প্রত্যেকটি বিষয়ের সঙ্গেই একুশের সেই চেতনা সম্পৃক্ত। আমাদের সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে যদি এই চেতনাকে ধারণ করতে পারি, আশা করি বাংলাদেশ যে কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছানোর কথা ছিল দীর্ঘ ৫৪ বছরে, যা এখনো হয়নি, সেই জায়গাটিতে আমরা পৌঁছে যেতে পারব।
জেলা প্রশাসক আবু সাইদের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহমেদ সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সভা শেষে জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।