logo
Advertisement

নোয়াখালীতে হত্যা মামলায় ২ জনের কারাদণ্ড

নোয়াখালীতে হত্যা মামলায় ২ জনের কারাদণ্ড
চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। ছবি : এশিয়া পোস্ট

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে একটি হত্যা মামলায় সাইফুল ইসলাম রুবেল (৪২) নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন ও নূর উদ্দিন শমির (৩৫) নামের অপর আসামিকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলায় ৫ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিশেষ জজ বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় প্রদান করেন। রায়ের সময় আসামিরা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সাইফুল ইসলাম রুবেল কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজ আলমের ছেলে। ৫ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর উদ্দিন শমির একই ওয়ার্ডের নূর নবীর ছেলে।

আদালত ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের সঙ্গে বাড়ির সীমানার গাছ কাটা নিয়ে মামলার বাদী ছলিমুল্লাহের বিরোধ ছিল। এ বিরোধ নিরসনের জন্য ২০১২ সালের ৬ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টায় বাদীর বাড়িতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়। শালিস চলাকালে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাদীর ছেলে শাইদুল ইসলাম শাহিনকে (১৯) লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এ সময় সাইফুল ইসলাম রুবেল একটি লোহার রড শাহিনের গলার ডান পাশে ঢুকিয়ে দেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শাহিনকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী সময়ে তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

সোমবার বিকেলে কাস্টডিতে থাকা আসামি সাইফুল ইসলাম রুবেলসহ অন্য আসামিদের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামি সাইফুল ইসলাম রুবেলকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। অপর আসামি নূর উদ্দিন শমিরকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত না হওয়ায় সিরাজ আলম, কাজুলী বেগম, রোকসানা বেগম ও আফরোজা বেগমসহ মামলার ৫ আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিশেষ জজ আদালতের পিপি তাপক্কার হোসেন মো. খায়রুল ওয়ালা। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, আমরা রায়ে সন্তুষ্ট, তবে আশা করেছিলাম আদালত প্রধান আসামিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করবেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ছাড়াও বাদীপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট হাবিবুর রসুল মামুন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল হক।