logo

ফিল্মের সংকটে এক্সরে বন্ধ, বিপাকে রোগীরা

ফিল্মের সংকটে এক্সরে বন্ধ, বিপাকে রোগীরা
পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে এক্সরে পরীক্ষা। ফিল্মের সংকটে এই সেবা বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে রোগীদের। অনেকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাচ্ছেন। এতে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে।

শুধু এক্সরে নয়, হাসপাতালটিতে রয়েছে জনবল সংকটও। প্রায় ৪০টি পদ শূন্য রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অ্যাম্বুল্যান্স থাকলেও চালকের অভাবে নিয়মিত সেবা ব্যাহত হচ্ছে। রোগীদের খাবার রান্নার জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী না থাকায় খাবার ব্যবস্থাপনাতেও তৈরি হয়েছে জটিলতা। সব মিলিয়ে নানা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম।

গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে এসব চিত্র দেখা যায়। এক্সরে করাতে আসা রোগীদের জানানো হয়, হাসপাতালের এক্সরে ফিল্ম শেষ হয়ে গেছে। ফলে প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে হাসপাতাল থেকে এক্সরে পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পদে জনবল সংকট রয়েছে। প্রায় ৪০টি পদ শূন্য থাকায় বিদ্যমান কর্মীদের ওপর বাড়তি দায়িত্ব পড়ছে। অন্যদিকে অ্যাম্বুল্যান্স থাকলেও চালক না থাকায় জরুরি রোগী পরিবহনেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। রোগীদের জন্য রান্নার কাজে নিয়োজিত কর্মী না থাকায় খাবার সরবরাহ নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালের খাবারের মান নিয়েও রোগী ও স্বজনদের একাংশ অভিযোগ করেছেন।

ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষ কম খরচে চিকিৎসা নিতে সরকারি এ হাসপাতালের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ না থাকায় তাদের অনেককেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে হচ্ছে।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের এসব সমস্যা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক সংকট তৈরি হলেও স্থায়ীভাবে সমাধান হচ্ছে না। ফলে সরকারি হাসপাতালের সেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে।

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাসান আলী মোল্লা এশিয়া পোস্টকে বলেন, এসব সমস্যা আছে। আমরা চাহিদাপত্র দিয়েছি। দেখা যাক সমস্যাগুলো কবে সমাধান হয়।

এক্স-রে ফিল্মের সংকটের বিষয়ে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. এস আই এম রাজিউল করিম এশিয়া পোস্টকে বলেন, এক্সরে ফিল্ম শেষ হয়েছে, বিষয়টি জানি। কিন্তু আগামী ডিসেম্বরের আগে টেন্ডার না হলে এক্সরে ফিল্ম দেওয়া সম্ভব নয়।