logo

গাড়িচালকদের জন্য বানানো শতকোটির বিশ্রামাগার নিজেই ‘বিশ্রামে’

গাড়িচালকদের জন্য বানানো শতকোটির বিশ্রামাগার নিজেই ‘বিশ্রামে’

প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কুমিল্লার নিমসারে গাড়িচালকদের জন্য আধুনিক বিশ্রামাগারটি নির্মাণ শেষ হওয়ার দুই বছর পার হলেও এখনও চালু হয়নি। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি এখন চালকদের বিশ্রামের জায়গা না হয়ে বখাটে, টিকটকার ও মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ১৩ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত এই বিশ্রামাগারের কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুনে। এখানে প্রায় ১০০ জন চালকের জন্য ঘুমানোর কক্ষ, গোসলখানা, নামাজের স্থান, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র, ক্যানটিন, বিনোদন সুবিধা, ট্রাক পার্কিং ও মেরামতের ওয়ার্কশপসহ নানা আধুনিক সুবিধা রাখা হয়েছে। তবে উদ্বোধন না হওয়ায় এবং কোনো নিরাপত্তা বা তদারকি না থাকায় দিনে সেখানে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, ভিডিও ধারণ ও টিকটক শুটিং চলে, আর রাতে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা।

চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এসে বিশ্রামের উপযুক্ত জায়গা না থাকায় তাদেরকে রাস্তার পাশে ঝুঁকি নিয়ে বিশ্রাম নিতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক সময় সড়কের পাশে ঘুমালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঝামেলাতেও পড়তে হয় বলে জানান তারা।

গাড়িচালক রক্সি আলম বলেন, কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে কোটি টাকার এই প্রকল্পটি দিন দিন অচল হয়ে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত বিশ্রামাগারটি চালুর দাবি জানাচ্ছি।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের কুমিল্লা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক রোটারিয়ান কাজী জাকির হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিশ্রামাগারটি চালু হলে মহাসড়কে পণ্যবাহী চালকদের ভ্রমণজনিত ক্লান্তি ও অবসাদ দূর হবে। সেই সঙ্গে চালকরা স্বস্তিদায়কভাবে গাড়ি চালাতে পারবেন। ফলে মহাসড়কে দুর্ঘটনার সংখ্যাও কমবে।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) কুমিল্লার সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিশ্রামাগারটির কাজ শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা দুঃখজনক। কী এমন আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এটি চালু করা যাচ্ছে না স্পষ্ট করা দরকার। শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে হবে না, এর সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ থাকবে দ্রুত চালকদের জন্য বিশ্রামাগারটারটির উন্মুক্ত করা হোক।

কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান বলেন, চালকদের বিশ্রামাগার না থাকায় অনেক কষ্ট হয় এবং বিশ্রাম না নিতে পারায় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। এটাসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে আরও ৪-৫টি বিশ্রামাগার চালু রাখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিশ্রামাগারটি পরিচালনার জন্য ইজারা আহ্বান করা হয়েছে এবং ঠিকাদার পেলে আমরা তাদের নিকট হস্তান্তর করব। সরকারি কাজ বললেই দ্রুত হয় না, সময় লাগে।

সড়ক বিভাগ সংশ্লিষ্টদের সূত্রে জানা যায়, দেশের চারটি জাতীয় মহাসড়কের চারটি স্থানে আধুনিক সুবিধাসংবলিত বিশ্রামাগার নির্মাণের প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ২৭ আগস্ট একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। উক্ত প্রকল্পের আওতায় চারটি বিশ্রামাগারের মধ্যে দুইটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিজস্ব ভূমিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৭৮তম কিলোমিটারে কুমিল্লার নিমসার নামক স্থানে এবং ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ১০৯তম কিলোমিটারে সিরাজগঞ্জের পাঁচলিয়া নামক স্থানে।