logo
৬ দিন কর্মচারী, এক দিন মালিক

দুর্গাপূজার কেনাকাটায় জমে উঠেছে ‘শুক্রবারের বউ বাজার’

কুরবান আলী
দিনাজপুর
দুর্গাপূজার কেনাকাটায় জমে উঠেছে ‘শুক্রবারের বউ বাজার’
দিনাজপুর শহরের মালদহপট্টি ও বাসুনিয়াপট্টিতে অবস্থিত এই বউ বাজার। বাড়তি আয়ের আশায় এই বাজারের বিভন্ন দোকানের কর্মচারীরা নিজেদের উদ্যোগে শুক্রবার রাস্তার দুই পাশের ফুটপাতে পণ্য নিয়ে বসেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

দিন যত যাচ্ছে, ততই ঘনিয়ে আসছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবের শেষ মুহূর্তে কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আর এই সময়ে জমে উঠেছে দিনাজপুরের শুক্রবারের বউ বাজার। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছে বাজারটি।

বাজারটির মূল নাম বউ বাজার। নারী ক্রেতা ও পুরুষ বিক্রেতাদের উপস্থিতির কারণে এর নামকরণ হয়েছে বউ বাজার। বাজারের বেশির ভাগ বিক্রেতাই দিনাজপুর জেলা শহরের মালদহপট্টি, বাহাদুরবাজারসহ বিভিন্ন বড় মার্কেট ও দোকানের কর্মচারী। বাড়তি আয়ের আশায় তারা নিজেদের উদ্যোগে শুক্রবার বউ বাজারের রাস্তার দুই পাশের ফুটপাতে পণ্য নিয়ে বসেন। তাই এক দিনের জন্য এই বাজারকে ‘শুক্রবারের বউ বাজার’ বলা হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর ও বিকেল পর্যন্ত এই বাজারে চলে কেনাবেচা। বাজারটিতে থান কাপড়, তৈরি পোশাক, শাড়ি, লুঙ্গি, প্যান্ট, শার্ট, পাঞ্জাবি-পায়জামা, টুপি, জুতা, কসমেটিকসসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য বিক্রি হয়। শহরের বিভিন্ন মহল্লার অন্য দোকানিরাও নিজেদের পণ্য নিয়ে শুক্রবার সকালে এই বাজারে আসছেন। ফলে দিন দিন জমজমাট হয়ে উঠছে বউ বাজার।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

বাজারের প্রতিটি দোকানকে মালিক সমিতিকে ২০ টাকা করে দিতে হয়। বাজারের উন্নয়নকাজের জন্য এই টাকা নেওয়া হয়। শুক্রবার বাজারটিতে চার শতাধিক দোকান বসে।

শুক্রবার সরেজমিনে বাজারে গিয়ে নারী ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। মূলত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে কেনাকাটা বেড়েছে।

ক্রেতারা জানান, অন্যান্য মার্কেটের তুলনায় এই বাজারে কম দামে পোশাক পাওয়া যায়। এ কারণে অনেকেই দুর্গাপূজার কেনাকাটা করছেন এখান থেকে। অন্যদিকে, পূজা উপলক্ষে হঠাৎ ক্রেতার চাপ বেড়ে যাওয়ায় তাদের সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।

দিনাজপুর শহরের রায়সাহেব বাড়ি এলাকার বাসিন্দা কল্পনা রানী বলেন, ‘আমি নিয়মিত এই বাজার থেকে কাপড় কিনি। সামনে শারদীয় দুর্গোৎসব, তাই এখান থেকেই পূজার কেনাকাটা করে নিলাম। বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। এই বাজারে কাপড় অনেক কম দামে পাওয়া যায়। আগেও এখান থেকে কাপড় কিনতাম। এখন বড় মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ জন্য আমার কাছে এই বাজারই পছন্দের।’

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

একই এলাকার সাবিত্রী রানী বলেন, ‘শহরের বড় বড় মার্কেটে অন্যান্য দিন কাপড়ের দাম অনেক বেশি থাকে। অথচ সেই টাকা দিয়ে আমি এই বাজারে দুই থেকে তিন জোড়া কাপড় কিনতে পারছি। এখন মানুষের হাতে বেশি টাকা নেই। এ কারণে কম দামে যেখানে কাপড় পাওয়া যায়, সেখানেই মানুষ ছুটছে। এ জন্য আজ বাজারে অনেক ভিড়।’

কাপড় বিক্রেতা শাকিল হোসেন বলেন, ‘আমি মালদহপট্টির একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করি। সপ্তাহের ছয় দিন অন্যের দোকানে কাজ করার পাশাপাশি শুক্রবার এই বাজারে দোকান নিয়ে বসি। এতে আমার কিছু বাড়তি আয় হয়। বিশেষ করে ঈদ ও পূজার সময় এই বাজারে প্রচুর ভিড় হয়। সামনে দুর্গাপূজা, তাই আজ ক্রেতার চাপ অনেক বেশি। অনেক সময় ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে।’

মালদহপট্টি ফুটপাত বউ বাজার দোকানদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিলিপ কুমার বলেন, ‘এই বাজারে নিরাপত্তার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে দুজন নারীসহ মোট ছয়জন কর্মী রয়েছেন। পাশাপাশি সমিতির নেতারা সব সময় বাজার তদারকি করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশও দায়িত্ব পালন করে।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

তিনি বলেন, প্রথম দিকে আমরা কয়েকজন শুক্রবার দোকান দিয়েছিলাম। পরে বউ বাজার নাম দিই। এখন আমাদের সমিতির সদস্য প্রায় ৪০০ জন। দিন দিন বাজারের আয়তন ও দোকানের সংখ্যা বাড়ছে। আগে শুধু মালদহপট্টি ও বাসুনিয়াপট্টিতে বাজার বসত। এখন চারুবাবুর মোড়, চুড়িপট্টি, শ্যামলাবাড়ী রোড, বাধনার মোড় ও নিমতলা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।’

দিলিপ কুমার আরও বলেন, ‘দুর্গাপূজা উপলক্ষে আজ বউ বাজারে একটু বেশি ভিড় ছিল। কেনাকাটাও অনেক হয়েছে। অনেকে বড় মার্কেটে না গিয়ে শুক্রবারের বউ বাজারে চলে আসেন। বড় মার্কেটগুলোতে কর্মচারী, বিদ্যুৎ বিল, দোকানভাড়াসহ বিভিন্ন ধরনের খরচ রয়েছে। এখানে তেমন খরচ নেই বললেই চলে। তাই আমরা অল্প লাভে কাপড় বিক্রি করি। এতে ক্রেতারা খুশি, আমরাও খুশি।’