logo

ডিএনএ পরীক্ষায় এক সন্তানের বাবার বুকে ফেরার গল্প

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, চট্টগ্রাম
ডিএনএ পরীক্ষায় এক সন্তানের বাবার বুকে ফেরার গল্প
লিগ্যাল এইডের উপহারের টি-শার্ট হাতে বাবা-ছেলে। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকার যুবক আশরাফ উদ্দীনের দিন কাটছিল সাদাসিধে ভাবে। হঠাৎ একদিন ২৭ বছর বয়সি এই যুবকের বাবা বলে উঠেন তিনি তার সন্তান নন। যাকে নিজের জন্মদাতা বাবা বলে জানত আশরাফ, সেই বাবাই অস্বীকৃতিতে যেন আকাশ ভেঙে পড়ে তার।

এরইপ্রেক্ষিতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পিতৃত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার (৯ জুন) চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মধ্যস্থতায় উভয়পক্ষের মধ্যে সমঝোতা সম্পন্ন হয়। দুই বছরের আইনি লড়াইয়ের পর বাবা তাকে আবারও আগের মতো বুকে টেনে নেন।

ভুক্তভোগী আশরাফ উদ্দীন ঘটনার বিবরণ দিয়ে এশিয়া পোস্টকে জানান, তার মাকে তালাক দেওয়ার পর বাবা মুকছুদুল আলম দ্বিতীয় বিবাহ করেন। তবে আশরাফ বাবার সঙ্গেই বড় হচ্ছিলেন। ২০২৪ সালে ঘখন তার বয়স ২৫ বছর হঠাৎ বাবা তাকে অস্বীকার করলে তিনি আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে লিগ্যাল এইডের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা অফিস এবং পরবর্তীতে জেলা কর্মকর্তাদের পরামর্শে আদালতের নির্দেশে মা, বাবা ও ছেলের ডিএনএ পরীক্ষা করানো হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে পাঠানো ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে যখন প্রমাণিত হলো আশরাফ আসলেই মুকছুদুল আলমের নিজের রক্ত, তখন আর কোনো আইনি তর্কের অবকাশ রইল না। মামলা-মোকদ্দমার দীর্ঘসূত্রতায় না গিয়ে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার দুজনকে সমঝোতার টেবিলে বসান। অবশেষে মঙ্গলবার (৯ জুন) চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে উভয়পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী, মুকছুদুল আলম মুরশেদ আনুষ্ঠানিকভাবে আশরাফকে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ছেলেকে উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তির অধিকার প্রদান, ঘর নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা সহায়তা এবং আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে তাকে নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার করেন।

চুক্তির একটি উল্লেখযোগ্য শর্তে বলা হয়েছে, বাবা স্থানীয় জুমার নামাজের সময় মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিদের সামনে আশরাফকে নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় করিয়ে সামাজিক স্বীকৃতি দেবেন। অন্যদিকে আশরাফও চুক্তিতে বাবার প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন এবং তার দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেছেন।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা (সিনিয়র সহকারী জজ) সুব্রত দাশ এশিয়া পোস্টকে জানান, ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বাবা তার সন্তানকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। সমঝোতার পর বাবা-ছেলে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তিতে এগিয়ে আসায় লিগ্যাল এইডের পক্ষ থেকে তাদের টি-শার্ট উপহার দেওয়া হয়।