logo
Advertisement

ধর্ষণের পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা, ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

ধর্ষণের পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা, ২ জনের মৃত্যুদণ্ড
দণ্ডপ্রাপ্ত খলিল উদ্দিন ও মো. গোলাম হোসেন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

হবিগঞ্জে তরুণীকে ধর্ষণের পর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার ঘটনায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দা মিনহাজ উম মুনীরা তাদের ফাঁসির আদেশ দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের বাসিন্দা মিরাশ উদ্দিনের ছেলে খলিল উদ্দিন ও ইরশাদ উল্লাহর ছেলে মো. গোলাম হোসেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে হাজির ছিলেন।

রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পাবলিক প্রসিকিউটর) কামাল উদ্দিন আহমেদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। একজন প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে। অপরজন বিষয়টি দেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে চায়। পরে দুজন মিলে মেয়েটিকে হত্যা করে। এটি চরম অমানবিক একটি বিষয়।

তিনি আরও বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আসামিদের মৃত্যুদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। তারা যদি আপিল করতে চান তবে আগামী ৭ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর পূর্ব ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের সুফি মিয়ার মেয়ে জুবা আক্তারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়েন একই গ্রামের মিরাশ উদ্দিনের ছেলে খলিল উদ্দিন। স্ত্রী সন্তান থাকা সত্ত্বেও তিনি জুবার সঙ্গে প্রেম করেন। কিছুদিন প্রেম করার পর জুবা চিকিৎসার জন্য কিছু টাকা লাগবে বলে জানিয়ে তার পুরোনো রুপার চেন বিক্রি করতে চায়।

চেন ক্রয় এবং টাকা দিতে রাজি হন প্রেমিক খলিল। তিনি জুবাকে ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর রাত ১টায় দেখা করতে বলেন। বিষয়টি খলিল গ্রামের ব্যবসায়ী গোলাম হোসেনকে জানান। রাতে জুবা দেখা করতে গেলে তাকে নিয়ে গ্রামের পার্শ্ববর্তী একটি জমিতে যান খলিল। এ সময় তারা শারীরিক সম্পর্ক করেন। বিষয়টি লুকিয়ে গাছের আড়াল থেকে দেখেন গোলাম হোসেন। পরে তিনি গিয়ে জুবাকে ধর্ষণ করতে চান। এতে সে রাজি হয়নি। এক পর্যায়ে তাকে টানাহিঁচড়া করতে থাকেন। কোনো অবস্থাতেই তাকে রাজি করতে না পেরে গোলাম হোসেন ওড়না দিয়ে তার দুই হাত বাঁধেন। পরে দুজন তাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার পর ব্লেড দিয়ে গলা কাটেন। তার মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা পালিয়ে যান।

পরদিন দুপুরে পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজির পর তার মরদেহ পান। এ ঘটনায় নিহতের বাবা সুফি মিয়া বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। এর প্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) উল্লিখিত দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়। এর মধ্যে খলিল উদ্দিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলায় স্বাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে বিচারক রোববার এ রায় দেন।