হুইলচেয়ার পেয়ে স্বস্তি ইভার, হাসি ফুটল মায়ের মুখে

দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন জিন্নাত আরা জিনুক। জন্মগতভাবে শারীরিক প্রতিবন্ধী ১৯ বছর বয়সি মেয়ে নুসরাত জাহান ইভার চলাফেরার সামর্থ্য না থাকায় দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থাকতে হতো। এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতও তৈরি হয়েছিল। মেয়ের এই কষ্ট দেখে অসহায় বোধ করতেন মা। অবশেষে একটি হুইল চেয়ার পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে তার মনে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের সহায়তায় ইভার জন্য হুইলচেয়ার পান জিন্নাত আরা জিনুক। এদিন ইভাসহ পাঁচজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসচ্ছল ব্যক্তি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবারের সদস্য, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মধ্যে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়।
ফটিকছড়ির শহীদ শফিকুন নুর মওলা (বীরপ্রতীক) গণমিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রহমত উল্যাহ।
অনুষ্ঠানে সরোয়ার আলমগীর বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের সরকার। চা শ্রমিক থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের সহায়তায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব সময় বলেন, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশি।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজিব আচার্য্য জানান, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চা শ্রমিক পরিবারের সদস্য এবং স্কুল-কলেজের ৭৫ শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি দুই হাজার টাকা করে মোট এক লাখ ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ১৪টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে মোট সাড়ে চার লাখ টাকা এবং জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের আওতায় ১০ জনকে জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ছালেক, বিএনপি নেতা মোবারক হোসেন কাঞ্চন ও উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব জহির আজম চৌধুরীসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
