logo

দখল-দূষণে মৃতপ্রায় রহমতখালী খাল, বাড়ছে জলাবদ্ধতা

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, লক্ষ্মীপুর
দখল-দূষণে মৃতপ্রায় রহমতখালী খাল, বাড়ছে জলাবদ্ধতা
লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্যবাহী রহমতখালী খাল দখল-দূষণে মৃতপ্রায়। ছবি : এশিয়া পোস্ট

দখল ও দূষণের কবলে পড়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্যবাহী রহমতখালী খাল। এক সময়ের খরস্রোতা এ খাল এখন পরিণত হয়েছে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে। খালের দুই পাড় দখল করে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ। এতে বাড়ছে জলাবদ্ধতা, হুমকির মুখে পড়ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ, মান্দারি, জকসিন ও পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ রহমতখালী খাল একসময় ছিল এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। ভোলা-বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা বড় বড় নৌকায় করে পণ্য পরিবহন করতেন এই খাল দিয়ে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে দখল, ভরাট ও দূষণের কারণে খালটি এখন প্রায় মৃতপ্রায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা শহর ও আশপাশের বাজার এলাকার ময়লা-আবর্জনা, প্লাস্টিক বর্জ্য এবং বাসাবাড়ির মানববর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে খালে। ফলে খালের পানি কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারদিকে। অনেক স্থানে কচুরিপানা জমে পানি প্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবুল কালাম বলেন, একসময় এই খালের পানি দিয়ে মানুষ গোসল করতো, মাছ ধরতো। এখন খালের পাশে দাঁড়ানোই কষ্টকর। দুর্গন্ধে বসবাস করা দায় হয়ে গেছে।

আরেক বাসিন্দা রাশেদা বেগম বলেন, বর্ষা এলেই পানি নামতে পারে না। সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। মশা-মাছির উপদ্রবও অনেক বেড়েছে। শিশুদের নানা রোগবালাই দেখা দিচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, গত বছরের ভয়াবহ বন্যায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকার অন্যতম কারণ ছিল রহমতখালী খালের পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়া।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খাল রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। প্রভাবশালী মহল খালের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের তেমন দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান বলেন, রহমতখালী খালের পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে পর্যায়ক্রমে খনন ও পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। খালের অবৈধ দখল ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। খাল রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করে যাচ্ছে।

সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন খাল পরিদর্শন করেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, খাল দখলমুক্ত ও পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন, কচুরিপানা ও ময়লা অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। অবৈধ দখলদারদের চিহ্নিত করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

পরিবেশবিদরা বলছেন, রহমতখালী খাল শুধু একটি জলাধার নয়, এটি এ অঞ্চলের পরিবেশ, কৃষি ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।