logo

কেজিতে ৫-৬ টাকা লোকসান, দামে হতাশ আলু চাষিরা

কেজিতে ৫-৬ টাকা লোকসান, দামে হতাশ আলু চাষিরা

বগুড়ায় চলতি মৌসুমে আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারদর কম থাকায় চাষিরা পড়েছেন বড় ধরনের লোকসানে। উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে আলু বিক্রি করতে গিয়ে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত ক্ষতি গুনতে হচ্ছে তাদের। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা; অনেকেই আগামী মৌসুমে আলু চাষ কমানোর কথা ভাবছেন।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর ৫৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৫৪ হাজার ৪৬৫ হেক্টরে। নভেম্বর-ডিসেম্বরে রোপণের পর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আলু উত্তোলন করেন কৃষকরা। পাকড়ি, এস্টারিক্স, কার্ডিনাল, ডায়মন্ড ও গ্র্যানোলাসহ প্রায় ৩০ জাতের আলু চাষ হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালে জেলায় ৫৫ হাজার ৬০ হেক্টর জমিতে আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আবাদ হয়েছিল ৬০ হাজার ৪৩৫ হেক্টরে। সে বছর মোট উৎপাদন হয় প্রায় ১৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৭০ টন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে আবাদ ও ফলন—দুটিই বেড়েছিল।

মাঠপর্যায়ের কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে এক বিঘা জমিতে আলু চাষে গড়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এর মধ্যে বীজে ২৫-৩০ হাজার, সার ও কীটনাশকে ১৫-১৮ হাজার, শ্রমে ১২-১৫ হাজার এবং সেচসহ অন্যান্য খাতে ৮-১০ হাজার টাকা লাগে। পরিবহন, বাছাই ও আনুষঙ্গিক খরচ যোগ হলে মোট ব্যয় আরও বাড়ে।

ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘায় ৭৫ থেকে ৮৫ মণ, অর্থাৎ প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ টন আলু পাওয়া যায়। কিন্তু বর্তমান পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি দাম ৮ থেকে ১২ টাকা হওয়ায় মোট বিক্রি দাঁড়াচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে। ফলে বিঘাপ্রতি ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে।

জেলায় ৫২টি হিমাগারে প্রায় ৬ লাখ টনের বেশি আলু সংরক্ষণের সক্ষমতা থাকলেও কম দামের কারণে কৃষকরা তেমন সুবিধা নিতে পারছেন না। হিমাগারে সংরক্ষণ ব্যয় বেশি হওয়ায় অনেকেই তা এড়িয়ে যাচ্ছেন।

চাষিদের ভাষ্য, প্রতি কেজি আলুর উৎপাদন খরচ পড়ছে ১৫ থেকে ১৬ টাকা, কিন্তু বিক্রি করতে হচ্ছে ৯ থেকে ১২ টাকায়। এতে অনেক ক্ষেত্রেই মূলধনই উঠে আসছে না। গত বছরের মতো এবারও লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।

শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষক আবদুল হালিম বলেন, ফলন ভালো হয়েছে, কিন্তু দাম নেই। এই দামে বিক্রি করলে খরচই উঠছে না। প্রতি কেজিতে ৫–৬ টাকা লোকসান হচ্ছে।

সদর উপজেলার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, বীজ, সার, কীটনাশক—সব কিছুর দাম বেড়েছে। হিমাগারে রাখতে গেলেও খরচ বেশি। তাই বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করছি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সোহেল মো. সামছুদ্দীন ফিরোজ বলেন, আলুর পাশাপাশি ভুট্টা, সরিষাসহ অন্যান্য ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে ঝুঁকি ও খরচ—দুটিই কমবে।