logo

শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, মাদ্রাসাছাত্রীর বাড়িতে হামলা

শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ, মাদ্রাসাছাত্রীর বাড়িতে হামলা

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবিলী ইউনিয়নে মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় থানায় মামলা করাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগের জেরে ছাত্রীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিনব্যাপী এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।

প্রায় ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল লোক ওই ছাত্রীর বাড়িতে হামলা করছে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারটিকে হুমকি দিচ্ছে।  

ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করে মাসুদ পারভেজ নামে এক ব্যক্তি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি লিখেন, একটি ১৩ বছরের শিশুকে ঘর থেকে টেনে বের করে মারধর করা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জবানবন্দি প্রত্যাহারের চাপ দেওয়া শুধু অমানবিকই নয়, আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।

ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটা অন্যায়ের প্রতিবাদে মামলা করেছি। মামলা না করায় আমার বাড়িঘরের হামলা-ভাঙচুর চালায়। মামলা তুলে নিতে আমাদেরকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করে স্থানীয়দের উদ্যোগে শনিবার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। চরজুবিলী ইউনিয়নের দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তারা দাবি করেন, অভিযোগটি ভিত্তিহীন ও পরিকল্পিত।

তারা অভিযোগকারী পক্ষকে দোষারোপ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তার কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। এ ছাড়া ঘটনার প্রায় দুই মাস পর মামলা দায়ের করাকে তারা সন্দেহজনক বলেও উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান জানান, মামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজিত জনতা ওই ছাত্রীর বাড়িতে হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।

তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার যদি আলাদাভাবে হামলার বিষয়ে অভিযোগ করে, তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।