logo

কুমিল্লায় শিক্ষককে মারধর করলেন আরেক শিক্ষক

কুমিল্লায় শিক্ষককে মারধর করলেন আরেক শিক্ষক

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে এক শিক্ষককে মারধর করেছেন সহকর্মী আরেক শিক্ষক। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনা শুরু হয়েছে। 

গতকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গোপালনগর আলিম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, মাদ্রসার প্রতিষ্ঠাতা ও বাংলা শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন একই প্রতিষ্ঠানের অপর শিক্ষক খাইরুল ইসলামকে ডেকে উপবৃত্তির কাজ নিয়ে কথা বলেন। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটির জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তাকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং পরে শিক্ষকদের কক্ষে নিয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে মারধর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ডা. সাগর বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষককে মারধরের মতো গুরুতর ঘটনা ঘটার পরও কোনো বিভাগীয় তদন্ত, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য অনিরাপদ থাকবে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিষয়টি ভিডিও করতে চাইলে তা বন্ধ করতে চাপ দেওয়া হয়। পরে সুযোগ পেয়ে বের হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করি। একজন সহকর্মী এসে আমাকে সহায়তা করেন।’

অভিযুক্ত শিক্ষক জাহাঙ্গীর বলেন, ‘ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। এর জন্য ক্ষমা চেয়েছি।’

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা শাহ আলম বলেন, উভয়পক্ষ নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আপস-মীমাংসা করেছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কে এম মীর হোসেন বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তবে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে অভিযুক্ত শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুরুল আমিন বলেন, ওই শিক্ষক প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন এবং তাকে সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।