logo

প্রস্তুত এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ মাঠ, লাখো মুসল্লি সমাগমের আশা

প্রস্তুত এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ মাঠ, লাখো মুসল্লি সমাগমের আশা

ঈদুল ফিতরের জামাতের জন্য প্রস্তুত দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ ময়দান। নামাজে মুসল্লিরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে আদায় করতে পারেন সে জন্য সব ধরনের নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা। 

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পুরো ঈদগাহ মাঠজুড়ে কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ঈদের দিন সকাল থেকে মুসল্লিরা মাঠে স্থাপিত প্রবেশপথ দিয়ে ঈদগাহ মাঠে প্রবেশ করবেন। মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য প্রত্যেক প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর স্থাপন করা হয়েছে। মুসল্লিরা শুধু জায়নামাজ ও ছাতা নিয়ে ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করতে পারবেন। ঈদগাহ মাঠে নিরাপত্তা তদারকিতে একাধিক পর্যবেক্ষণ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। সুশৃঙ্খলভাবে ঈদের নামাজ সম্পন্ন করতে অসংখ্য মাইক বসানো হচ্ছে। মুসল্লিদের ওজুর জন্য পর্যাপ্ত অজুখানা এবং পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। 

ঈদগাহ ময়দান সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে ঈদের নামাজ পড়তে আসেন অনেকে। এতে ঈদ জামাতকে ঘিরে সৌহার্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে ময়দান। সবুজ ঘাসের ওপর চুন দিয়ে দাগ কাটা হয়েছে। ধোয়ামোছার পর সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও শেষ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন ঈদগাহে আসার প্রতিটি রাস্তায় থাকবে তল্লাশিচৌকি। মোতায়েন থাকবে বিপুলসংখ্যক র‍্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্য। সেই সঙ্গে সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন। থাকবে সেনাসদস্যদের বিশেষ টহল। এছাড়া ঈদ জামাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্যামেরাযুক্ত শক্তিশালী একাধিক ড্রোন মুসল্লিদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করবে। তিনটি আর্চওয়ের ভেতর দিয়ে মেটাল ডিটেক্টরের তল্লাশির মাধ্যমে মুসল্লিদের মাঠে প্রবেশ করানো হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে এই ঈদগাহে মিনার তৈরির পর দেশের তথা এশিয়ার বৃহত্তম ঈদগাহ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান। এখানে নামাজ পড়লে বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে-এ ধারণা থেকে অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে থেকে এখানে আসেন।

জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণভাবে যাতে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে পারেন সে জন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় ২২ একর আয়তনের ময়দানের ৫২ গম্বুজের ঈদগাহ মিনারের সামনের মাঠে সকাল ৯টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। পুরো ঈদগাহজুড়ে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। 

ঈদগাহ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা পাভেল হোসেন বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের নামাজ আদায় করব এই মাঠে। এখানে লাখো মানুষের সমাগম হয়। একসঙ্গে সবাই মিলে নামাজ আদায় করি।’

সার্বিক বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি একাধিক বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্বরত থাকবেন, সেইসঙ্গে সাদাপোশাকে ঈদগাহ ময়দানে মোতায়েন থাকবেন। যাতে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে আসতে পারেন এবং নামাজ আদায় করে বাড়িতে ফিরতে পারেন, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদগাহ ময়দানে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন। মুসল্লিরা যাতে সুন্দরভাবে ঈদের নামাজ আদায় করে ঘরে ফিরতে পারেন, সে জন্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি, নিরাপদে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করে ঘরে ফিরতে পারবেন।’