বরগুনায় বজ্রাঘাতে জেলে ও কৃষকের মৃত্যু, আহত ১৫ শিক্ষার্থী

বরগুনায় পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে দুজনের মৃত্যু ও ১৫ স্কুলশিক্ষার্থী আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে আটজন বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। বাকি সাত শিক্ষার্থী চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরের পর পৃথক সময় এসব ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূজাখোলা গ্রামের মো. নূর জামাল ও পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পদ্মা এলাকার মো. আল আমিন।
জানা গেছে, বুধবার দুপুর থেকে জেলাজুড়ে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়। ঝড়ের সঙ্গে অস্বাভাবিক হারে বজ্রপাত হয়। এ সময় আমতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূজাখোলা গ্রামের কৃষক মো. নূর জামাল বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করছিলেন। তখন বজ্রাঘাতে তার মৃত্যু হয়। নিহতের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের পদ্মা গ্রামের জেলে মো. আল আমিন বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরার সময় বজ্রাঘাতে মারা যান।
এদিকে সদর উপজেলার ফুলঝুরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের পাশে বজ্রপাত হয়। এর বিকট শব্দে ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে আটজন বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি সাত শিক্ষার্থী চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।
চিকিৎসাধীন আহত ওই আট শিক্ষার্থী হলো ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা. কারিমা, মোসা. জান্নাতি, মোসা. রিয়া মনি, মোসা. মরিয়ম, মোসা. সামিরা, মোসা. রিয়ামনি এবং সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা. ইয়াসমিন ও মোসা. আমেনা আক্তার।
এ ঘটনার পরপরই বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. অলি উল্লাহর নির্দেশে হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরগুনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. শাকুর বলেন, বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্যের নির্দেশে আহত শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর এবং সার্বিক সহযোগিতার জন্য আমরা এসেছি। সংসদ সদস্যের নির্দেশ রয়েছে- শিক্ষার্থীদের সুস্থতার জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়ার।
ফুলঝুরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মো. বশির হোসেন বলেন, দুপুরের দিকে স্কুলের ক্লাস চলছিল। এ সময় হঠাৎ করে ভবনের পাশে তালগাছে বজ্রপাত হয়। তখন এর বিকট শব্দে ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে শিক্ষার্থীদের ফুলঝুরি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাই। শিক্ষার্থীদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসক বরগুনা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে শিক্ষার্থীদের সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। ইতোমধ্যে সাত শিক্ষার্থী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। এখনও হাসপাতালে আট শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন আছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূজাখোলা এলাকায় মাঠে কাজ করার সময় নূর জামাল নামে এক কৃষক বজ্রাঘাতে মারা যান। নিহতের পরিবারকে জেলা প্রশাসনের পক্ষে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।
বরগুনা জেলা প্রশাসক তাজলিমা আক্তার বলেন, বজ্রাঘাতে নিহত ব্যক্তির পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আহত শিক্ষার্থীদের শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।