বগুড়ায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামী-শ্বশুর গ্রেপ্তার

বগুড়ার গাবতলীতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী মিম খাতুনকে (২৩) পিটিয়ে হত্যার মামলার পলাতক প্রধান আসামি স্বামী সোহেল রানা (৩২) ও শ্বশুর জামাল উদ্দিনকে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোরে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার সোহেল রানা ও তার বাবা জামাল উদ্দিন গাবতলী উপজেলার বাওইটোনা গ্রামের বাসিন্দা।
দুপুরে র্যাব-১২-এর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৩ সালের মার্চে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী সোহেল রানার সঙ্গে মিম খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কনেপক্ষ থেকে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র দেওয়া হয়।
তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পুনরায় মোটা অঙ্কের যৌতুকের দাবিতে মিমের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। নির্যাতনের মুখে একপর্যায়ে মিম বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে পারিবারিকভাবে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে তাকে আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
গত ২ আগস্ট রাতে মিমের স্বামী সোহেল রানা তার শাশুড়ি সোলেনা বেগমকে ফোন করে জানান যে মিম অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এর কিছুক্ষণ পর আবারও ফোন করে মিমের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে স্বজনেরা সেখানে গিয়ে মিমের লাশ দেখতে পান।
ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে মিমকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ তোলা হয়। এ ঘটনায় নিহত মিমের বাবা বাদী হয়ে গাবতলী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন
মামলা দায়েরের পর থেকেই সোহেল রানা ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-১২ বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শেরপুর উপজেলার গাড়ীদহ এলাকা থেকে সোহেল রানা ও তার বাবা জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের গাবতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।



