logo

নিজেও হয়েছেন স্বাবলম্বী, কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করেছেন অনেকের

নিজেও হয়েছেন স্বাবলম্বী, কর্মসংস্থান ব্যবস্থা করেছেন অনেকের
কারখানায় পাপোশ তৈরিতে ব্যস্ত নারীরা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

‘আমি প্রায় ৩ বছর ধরে এই পাপোশ কারখানায় কাজ করছি। মাসে ভালো টাকা ইনকাম করি। পাপোশ তৈরি করে যা টাকা পাই সংসারের খরচ চলে, বাচ্চার পড়াশোনার খরচ চলে, নিজের জন্য কাপড় চোপড় কিনি, অবশিষ্ট টাকা স্বামীর হাতে তুলে দেই এখন আর সংসারে অভাব নাই আমার। বেশ ভালো আছি পরিবার নিয়ে’ কথাগুলো বলছিলেন পাপোশ কারখানার শ্রমিক নাজমা বেগম। শুধু নাজমা বেগমই নয়, এই কারখানায় কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন প্রায় দেড় শতাধিক নারী। খণ্ডকালীন কাজ করে প্রায় ৫০ জন।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বরুনাগাঁও গ্রামে অবস্থিত এই পাপোশ কারখানাটির। সকাল হলেই শুরু হয় খুটখাট শব্দ আর চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সরেজমিনে দেখা যায়, কর্মব্যস্ত সময় পার করছেন নারীরা। এখানে কেউ পাপোশ তৈরি করছেন, কেউবা আবার তৈরি করছেন রশি, কেউ ব্যস্ত রঙ আর ফিনিশিংয়ের কাজে।

জানা যায়, চাকরির সন্ধানে না ছুটে নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০১৯ সালে ছোট্ট পরিসরে পাপোশ তৈরি করা শুরু করেন ঠাকুরগাঁওয়ের হুমায়ুন কবির। পাপোশ তৈরির কারখানা প্রথমদিকে অনেক ঝড় বইয়ে যায়। এছাড়াও করোনার সময় ব্যবসাটিও প্রায় থমকে গিয়েছিল, তখনো তিনি স্বপ্ন দেখা থামাননি। নিজ জেলার একটি বেসরকারি সংস্থা সহায়তার জন্য এগিয়ে আসে। ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেন হুমায়ুন কবির। এখন তিনি পাপোশ তৈরি করে মাসে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা । শুধু তাই নয়, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন দুই শতাধিক নারীর। চেষ্টার মাধ্যমে উদ্যোক্তা হওয়া যায়, তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

কারখানার শ্রমিক বিলকিস আক্তার বলেন, আমি পড়াশোনা করিনি, ছোট থাকতে বিয়ে দিছে বাবা-মা। আমার স্বামী রিকশাচালক। যা ইনকাম করে কোনো মতো সংসার চলতো আমাদের। আমি ৩ মাস এই কারখানায় কাজ শিখছি। এখন ২ বছর ধরে এই কারখানায় কাজ করছি। বেতন পাই বেশ ভালো। অভাবের সংসারে আমার ইনকাম দিয়ে এখন অভাব নেই বললে চলে। ২ ছেলেকে পড়াশোনা করাচ্ছি আমার টাকা দিয়ে। সংসারে সহযোগিতা করতে পারছি। এখন ভালোই আছি।

শ্রমিক নাজু আক্তার বলেন, জিনিসপত্রের যা দাম। বর যা কামাই করে তা সংসারের খাবার কিনতে শেষ। বাচ্চার পড়াশোনা, কাপড়-চোপড় হয় না। আমাদের জন্য এই কারখানার পাপোশ তৈরির কাজটা অনেক উপকার হয়েছে। মাসে ১০-১২ হাজার টাকা ইনকাম করি। সবমিলে এখন পরিবার নিয়ে ভালো আছি।

খণ্ডকালীন কারখানায় কাজ করেন সুমি আক্তার। তিনি বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে পাপোশ তৈরি করি। এতে আমার পড়াশোনার খরচ পরিবার থেকে নিতে হয় না। নিজে চলি এবং পরিবারকে সাহায্য করতে পারি।

আরেক নারী ফাতেমা বেগম বলেন, পাপোশ তৈরি করা, সেলাই করা, ফিনিশিং দেওয়া সবকিছুই আমি করি। এখানকার নারীরা কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। মাসে আমরা প্রায় ১৫-১৬ হাজার টাকা উপার্জন করি।

ইএসডিওর রেইজ প্রকল্পের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা তাবরেদী রায় এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে মানুষকে যুক্ত করা এবং টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করা।

হুমায়ুন কবির এশিয়া পোস্টকে বলেন, ২০১৯ সালে পল্লি কর্মসংস্থান ও ইএসডিওর প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তিন লাখ টাকা ঋণ সহায়তা পাওয়ায় নতুন উদ্যমে পাপোশ তৈরির কাজ শুরু করি। আজ আমি স্বাবলম্বী হয়েছি। বর্তমানে এই কারখানায় ১৫০ জন নারী নিয়মিত এবং প্রায় ৪৮ জন নারী খণ্ডকালীন ভিত্তিতে কাজ করছেন।

ঠাকুরগাঁও বিসিক শিল্পনগরী কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান এশিয়া পোস্টকে জানান, সঠিক প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহযোগিতা, আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা এবং নিজের চেষ্টা থাকলে হুমায়ুন কবিরের মতো উদ্যোক্তা হয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব। হুমায়ুন কবির এক্ষেত্রে একটি উদাহরণ।