দালালের মাধ্যমে ভারতে গিয়ে বেকায়দায় দুজন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, শেরপুর
দালালের মাধ্যমে ভারতে গিয়ে বেকায়দায় দুজন
বেকায়দায় পড়া দুই ব্যক্তি। সোমবার সকালে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্ত এলাকায়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক ঘোরাফেরার সময় দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সঙ্গে বৈধ কোনো নথি (জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা পাসপোর্ট) না পেয়ে তাদেরকে বাংলাদেশে অবস্থান করতে দেওয়া হয়নি।

Advertisement

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তারা বিজিবির বাধার মুখে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া ও সীমান্ত পিলারের মাঝামাঝি শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন।

এর আগে, এদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন ৩৯ বিজিবির অধীন তাওয়াকুচা বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় তাদেরকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক দুজন বিজিবিকে জানান, গত ২৬ জুন দালাল চক্রের মাধ্যমে কাজের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। সোমবার ভোরের দিকে একই চক্রের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে ফিরে আসেন।

এ বিষয়ে ৩৯ বিজিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে এশিয়া পোস্টকে জানান, ওই দুই ব্যক্তির কাছে কোনো ধরনের কাগজপত্র ও পাসপোর্ট ছিল না। তারা অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদেরকে ভারতের দিকে পাঠানো হয়েছে।

বিজিবির আরেকটি সূত্র জানায়, আটকদের সঙ্গে কোনো পরিচয়পত্র পাওয়া না গেলেও তারা নিজেদেরকে বাংলাদেশি বলে দাবি করেছেন।

দাবি অনুযায়ী তাদের পরিচয় হলো, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পানিহার এলাকার মো. মোস্তফা আলীর ছেলে মো. ইব্রাহিম এবং একই উপজেলার ঘনশ্যামপুর এলাকার মোজাম্মেল হকের ছেলে মো. শরীফ।

বিজিবি জানায়, সোমবার সকালে সীমান্তের মেইন পিলার ১০৯৭ থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের ভেতরে রাঙ্গাজান এলাকায় ওই দুই ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে তাদের সীমান্তের মেইন পিলার ১০৯৬-এর ২এস-সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ভারতের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।

তবে আরেকটি সীমান্ত সূত্র জানায়, ওই দুই ব্যক্তি রোববার সন্ধ্যা থেকে কাঁটাতারের বেড়ার পাশে অবস্থান করছিলেন। সোমবার সকালে তারা বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে পড়েন। পরে বিজিবি তাদেরকে ফের সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেয়।

এ বিষয়ে তাওয়াকুচা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সীমান্তে মানবপাচারসহ সব ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় আমাদের নিয়মিত টহল ও নজরদারি অব্যাহত আছে।