logo
Advertisement

ফরিদপুর/চোরাই যন্ত্রপাতি কিনে হাসপাতালে ব্যবহারের অভিযোগ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ
ফরিদপুর, ঢাকা
চোরাই যন্ত্রপাতি কিনে হাসপাতালে ব্যবহারের অভিযোগ
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা নিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, ডানে চুরি হওয়া মালামাল। কোলাজ ছবি

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইলেকট্রিশিয়ানের বিরুদ্ধে চোরাই যন্ত্রপাতি কিনে হাসপাতালের বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম মেরামতের কাজে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে হাসপাতালের নষ্ট যন্ত্রাংশ বিধিবহির্ভূতভাবে বাইরে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সম্প্রতি চুরি হওয়া যন্ত্রপাতি উদ্ধারের ঘটনায় সমির শেখ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটকের পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আবিদুল হাসানের দাবি, আটক ব্যক্তি চুরি করা মালামাল হাসপাতালের ইলেকট্রিশিয়ান মাঈনুল ইসলামের কাছে বিক্রির কথা স্বীকার করেন। পরে তার সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে দুটি হ্যামার ড্রিল ও একটি লেজার মেশিন উদ্ধার করা হয় বলেও জানান ওই ব্যবসায়ী।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আবিদুল হাসান জানান, ফরিদপুর শহরের বদরপুর মারকাজ মসজিদের পাশে তার ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের কাজ চলছিল। সেখান থেকে বিভিন্ন সময় বেশ কিছু যন্ত্রপাতি চুরি হয়। চুরি যাওয়া মালামালের মধ্যে ৪৩ হাজার টাকা মূল্যের একটি লেজার মেশিন, ৩৩ হাজার টাকা মূল্যের দুটি হ্যামার ড্রিল, একটি সার্কুলার, ২১০০ ওয়াটের একটি রাউটার, দুটি ছোট ড্রিল ও একটি বড় ড্রিলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম রয়েছে। সব মিলিয়ে চুরি হওয়া এসব মালামালের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা বলে তার দাবি।

তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে চোরকে শনাক্ত করে আটক করা হয়। পরে ওই ব্যক্তি স্বীকার করেন, চুরি করা মালামাল তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইলেকট্রিশিয়ান মাঈনুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে তাকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতালে গেলে মাঈনুল ইসলামের কাছে একটি লেজার মেশিন ও দুটি হ্যামার ড্রিল পাওয়া যায় বলে দাবি করেন ব্যবসায়ী।

আবিদুল হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক সমির শেখ নগরকান্দা উপজেলার বিলনালিয়া গ্রামের খলিল শেখের ছেলে। সমির একটি ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তার দাবি, কাজ করার সুযোগে সেখান থেকে বিভিন্ন সময় মালামাল চুরি করে একটি হার্ডওয়্যার দোকানে নিয়ে যেতেন। ওই দোকানদারের মাধ্যমেই মাঈনুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় ও যোগাযোগ হয়। এরপর থেকে তিনি অল্প দামে চোরাই মালামাল মাঈনুলের কাছে বিক্রি করে আসছিলেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, চোরকে ধরে হাসপাতালে একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। পরে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা তাদের ভেতরে ডেকে নেন। এ সময় চোরকে ঘরের দরজা খুলে দিয়ে পালয়ে যেতে হাসপাতালের কিছু কর্মী সরাসরি সহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরদিন বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের পুরাতন ভবনের ১ নম্বর কক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের সঙ্গে একটি রফা বা মীমাংসা করা হয় বলে জানা গেছে। সেখানে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪৫ হাজার টাকা এবং দুটি যন্ত্র ফেরত দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে কোথাও কোনো অভিযোগ না করার বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির কাছ থেকে একটি অঙ্গীকারনামা লিখে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আবিদুল হাসান বলেন, ‘আমাদের মালামাল পেয়েছি, সমাধান হয়ে গেছে।’ তবে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারের পর বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে না জানিয়ে হাসপাতালের ভেতরে কীভাবে মীমাংসা করা হলো, কার উদ্যোগে এই আপস হলো এবং সেই অঙ্গীকারনামায় কী শর্ত ছিল—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট কোনো উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালে কর্মরত এক ব্যক্তি জানান, ইলেকট্রিশিয়ান মাঈনুল ইসলাম নিয়মিত চোর চক্রের কাছ থেকে অল্প দামে মালামাল কেনেন। পরে সেগুলো বাজার থেকে নতুন কেনা হয়েছে দেখিয়ে ভাউচারের মাধ্যমে হাসপাতালের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি মেরামতের কাজে ব্যবহার করা হয়। ওই ব্যক্তি আরও অভিযোগ করেন, হাসপাতালের বিভিন্ন নষ্ট যন্ত্রাংশও একটি চক্রের মাধ্যমে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া হাসপাতালের জেনারেটরের জ্বালানি তেল কেনার দায়িত্বও মাঈনুল ইসলামের ওপর রয়েছে এবং সেখানেও ভয়াবহ অনিয়ম হচ্ছে। তার আরও দাবি, হাসপাতালের কনফারেন্স রুমের একটি এলইডি টেলিভিশন, এসি ও ফ্যানসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম মাঈনুল ইসলাম নিজের বাসায় ব্যবহার করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মাঈনুল ইসলাম বলেন, ভাই, আমি ঝামেলার মধ্যে আছি। এসব নিয়ে কথা বলতে পারব না।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. হুমায়ুন কবিরের বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তার সহকারী সামিমের মাধ্যমে তিনি জানান, বর্তমানে ব্যস্ত আছেন এবং আগামী রোববার এ বিষয়ে কথা বলবেন।