নিয়োগের আড়াই বছর পর বৈধতা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের প্রশ্ন

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা নিয়োগের আড়াই বছর পর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে জবাব চেয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিয়ে তিন কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। গত শনিবার (২৩ মে) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. সগীর হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সিসিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন কিসের ভিত্তিতে উক্ত পদে অধিষ্ঠিত ও নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য স্থানীয় সরকার বিভাগের নথিতে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য তাকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
সিসিক সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৮ ডিসেম্বর একলিম আবদীনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। তখন সিসিকের মেয়র ছিলেন আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাসহ একলিম আবদীনের বেতন ধরা হয়েছে এক লাখ টাকার বেশি। শর্ত অনুযায়ী যেকোনো গ্রেডের কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার বিভাগের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে।
এ বিষয়ে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাই রাফিন সরকার এশিয়া পোস্টকে জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তিনি এই সিটির দায়িত্ব পান। আগের সরকারের সময় প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার নিয়োগ হয়।
তিনি বলেন, তখন কি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে বা নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে যে চিঠি ইস্যু হয়েছে তা সিটি করপোরেশনকে দেওয়া হয়নি।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়কে অবগত করার প্রয়োজন হয় কি না–এমন প্রশ্নের জবাবে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী বলেন, আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর স্থায়ী বা চুক্তিতে কোনো নিয়োগ হয়নি। নিয়োগের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন–এমনটা জানিয়ে কিছু দিন আগে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমরা যেহেতু নিয়োগ দেইনি সেক্ষেত্রে জানানো প্রয়োজন পড়েনি।
সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীন বলেন, আমার নিয়োগের যাবতীয় কাগজপত্র রয়েছে। ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর তৎকজলীন দুই বিভাগীয় কমিশনার ও সিটি প্রশাসকের কাছে আমার কাগজপত্র উপস্থাপন করেছি। বর্তমান প্রশাসকও আমার কাগজপত্র দেখেছেন।
মন্ত্রণালয়ের চিঠি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সিটি করপোরেশনের কাছে জানতে চাইবে মন্ত্রণালয়। আরও অনেকে চুক্তিতে চাকরি করছেন। আমার ক্ষেত্রে চিঠি ইস্যু কেন হয়েছে বোধগম্য নয়। ঈদের পর কাগজপত্রসহ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে জবাব দিব।
