logo
Advertisement
রংপুরে ৪ খুন

পানি দিয়ে আলামত নষ্টের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রংপুর
পানি দিয়ে আলামত নষ্টের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে
হত্যাকাণ্ডের শিকার চারজন। ছবি: প্রতিনিধির পাঠানো

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনাস্থলের ছাদ পানি দিয়ে ধুয়ে আলামত নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। মামলার এক আসামির বড় ভাই এ অভিযোগ করলেও পুলিশ তা অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, ভুল করে পানির মোটরের সুইচ চালু হয়ে ট্যাংক উপচে ছাদ ভিজে গেছে।

Advertisement

বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নগরীর কামালকাছনা-মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন মামলার আসামি সিদ্ধার্থ দাসের বড় ভাই পার্থ দাস।

পার্থের দাবি, ওই সময় বাড়িটির সব বাতি বন্ধ করে পানির মোটর চালু করা হয়। পরে ট্যাংক উপচে ছাদে পানি ছড়িয়ে পড়লে তিনি প্রতিবাদ করেন।

রাত ৯টার দিকে সরেজমিনে বাড়িটির ছাদে গিয়ে এর বড় একটি অংশ পানিতে ভেজা দেখা যায়। তবে পানি ছড়িয়ে পড়ায় কোনো আলামত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে পার্থ দাস বলেন, ‘পুলিশের দায়িত্ব ছিল বাড়ির বাইরে পাহারা দেওয়া। কিন্তু তারা বাড়ির ভেতরে ঢুকে আলামত নষ্ট করেছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে প্রথমে বাড়ির বাতি বন্ধ করা হয়। এরপর পানি ছেড়ে ছাদ ভিজিয়ে দেওয়া হয়।’

তবে বাড়িটির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হাকিম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাড়ির বাতি জ্বালাতে গিয়ে ভুল করে পানির মোটরের সুইচ চালু হয়ে যায়। ট্যাংক ভর্তি হয়ে পানি উপচে পড়তে শুরু করলে বিষয়টি বুঝতে পেরে মোটর বন্ধ করে দেওয়া হয়।’

রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত আগেই সংগ্রহ করা হয়েছে। ভুল করে মোটরের সুইচ চালু হওয়ায় ট্যাংকের পানি উপচে ছাদ ভিজেছে। বিষয়টি পরিদর্শন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে নগরীর কামালকাছনা-মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে প্রার্থী চক্রবর্তী এবং ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী ওরফে প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন ভোরে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস নামে দুই তরুণকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তাঁদের হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।