Advertisement

স্লুইসগেট ধসের তিন দিন পর নদীগর্ভে বিলীন হালিমার পুরো বাড়ি

এশিয়া পোস্ট নিউজ, নীলফামারী
স্লুইসগেট ধসের তিন দিন পর নদীগর্ভে বিলীন হালিমার পুরো বাড়ি
হালিমা বেগমের চোখের সামনেই পুরো বাড়ি নদীতে চলে গেছে। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মাত্র তিন দিন আগেও নদীভাঙনের পর কোনোভাবে টিকে ছিল বাড়ির অর্ধেক অংশ। সেই শেষ আশাটুকু আঁকড়ে ধরে ছিলেন নীলফামারীর ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পূব হলহলিয়া গ্রামের বাসিন্দা হালিমা বেগম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও রক্ষা পেল না। অব্যাহত ভাঙনে তার বাড়ির অবশিষ্ট অংশটুকুও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন ঘরের টিন, বাঁশ ও কাঠসহ ব্যবহারযোগ্য মালামাল খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সরেজমিনে হরিডারা নদীর তীরে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক দিন আগেও যেখানে হালিমা বেগমের বসতভিটা ছিল, সেখানে এখন শুধুই নদীর উত্তাল স্রোত। পরিবারের সদস্যরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঘরের অবশিষ্ট মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। নদীভাঙনের কবলে পড়ে পুরো পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

গত রোববার (২ আগস্ট) হরিডারা নদীর ওপর নির্মিত স্লুইসগেট ধসে পড়ার পর ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়। প্রথমে হালিমা বেগমের বাড়ির অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়। এরপর টানা চার দিনের ভাঙনে বুধবার অবশিষ্ট অংশটুকুও নদীতে তলিয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত হালিমা বেগম বলেন, সেদিন আমার চোখের সামনেই বাড়ির অর্ধেক নদীতে চলে গেল। ভাবছিলাম অন্তত বাকি অংশটা থাকবে। কিন্তু সেটাও আর রইল না। এখন ঘরের টিন আর কাঠ খুলে অন্য জায়গায় রাখছি। আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করি। নতুন করে ঘর তৈরির সামর্থ্য আমার নেই। এখন কোথায় থাকব, কীভাবে চলব—কিছুই বুঝতে পারছি না।

হালিমা বেগমের বড় মেয়ে ছাবিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম দিন কিছু শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছিল, এরপর আর কেউ খোঁজ নেয়নি। আমরা ত্রাণ চাই না। সেদিন যদি কয়েকটি বালুর বস্তা (জিও ব্যাগ) ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হতো, তাহলে হয়তো আমার মায়ের থাকার ভিটাটুকু রক্ষা পেত।

স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ রায় বলেন, স্লুইসগেট ভেঙে যাওয়ায় আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেল। সামনের মৌসুমে শত শত বিঘা কৃষিজমিতে সেচসংকট দেখা দেবে। ইতোমধ্যে বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটিও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, নদীভাঙন এখনও অব্যাহত রয়েছে। এতে তীরবর্তী আরও কয়েকটি বাড়িঘর চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আতঙ্কে অনেক পরিবার মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হাবীব বাবু বলেন, হালিমা বেগমের পুরো বাড়িটিই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যেও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ডোমার উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী ফিরোজ আলম বলেন, আমরা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে একটি অস্থায়ী কাঠের সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এখানে নতুন একটি ছয় ভেন্টের স্লুইসগেট নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি।

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ ত্বনি বলেন, প্রথম দিনই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে। যাদের বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে, তাদের নিজস্ব জায়গায় নতুন ঘর নির্মাণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়া স্থানীয়দের চলাচলের জন্য দ্রুত একটি অস্থায়ী কাঠ বা বাঁশের সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরেজমিনে পাঠানো হয়েছে।