logo

হরিণ শিকারের দায়ে স্বামী গ্রেপ্তার, ক্ষোভে তালাক দিলেন স্ত্রী

হরিণ শিকারের দায়ে স্বামী গ্রেপ্তার, ক্ষোভে তালাক দিলেন স্ত্রী

বরগুনার পাথরঘাটায় হরিণ শিকারের অপরাধে মো. হানিফ নামে এক ব্যক্তির কারাদণ্ড হয়েছে। তার এমন অপকর্মে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে তালাক দিয়েছেন স্ত্রী মোসা. শাহীনুর বেগম। গতকাল মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে কাজি অফিসে গিয়ে তালাক দেন তিনি। এর আগে সোমবার (২ মার্চ) রাত আড়াইটার দিকে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলা খাল এলাকা থেকে দুটি জবাই করা হরিণসহ গ্রেপ্তার হন হানিফ।

মো. হানিফ বরগুনার পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হাঁড়িটানা গ্রামের বাসিন্দা, আর শাহীনুর বেগম পাথরঘাটা পৌরশহরের শাহ আলমের মেয়ে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের বাদুরতলার খাল এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালান বনরক্ষীরা। এ সময় একটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার থেকে দুটি জবাই করা হরিণ ও ৯টি বিশেষ ফাঁদসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় মো. হানিফকে।

গ্রেপ্তারের পর হানিফকে পাথরঘাটা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মো. পনির শেখ তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালতের নির্দেশে জব্দ করা হরিণের চামড়া ও শিং সরকারিভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে এবং মাংসে কেরোসিন মিশিয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

হানিফের এই কর্মকাণ্ডে লজ্জিত তার স্ত্রী শাহীনুর বেগম। তিনি বলেন, হানিফ আগে সাগরে মাছ ধরতেন। কিন্তু ইদানীং তিনি হরিণ শিকারে জড়িয়ে পড়েন। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি কর্ণপাত করেননি।

শাহীনুর বেগমের ছোট ভাই জহিরুল ইসলাম বন বিভাগের পাথরঘাটা সদর বিট কার্যালয়ে মালির কাজ করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হানিফের এই অবৈধ কারবারের কারণে বন বিভাগে কাজ করা আমার পক্ষে দুরূহ হয়ে পড়ছিল। বারবার সতর্ক করার পরও তিনি অন্ধকার পথ ছাড়েননি। তাই পরিবারের সম্মান রক্ষার্থে আমার বোন এই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।