মোটরসাইকেল বাজারে, চালকের গলাকাটা লাশ মিলল হাওরে

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে ভাড়ায়চালিত এক মোটরসাইকেল চালককে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে নিহতদের পাশের গ্রাম ভাদেরটেক এলাকায় হাওরের জমি থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আনছর আলী (২৮) বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের চালবন গ্রামের মো. মানিক মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় মোটরসাইকেল চালক।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আনছর আলী মোটরসাইকেলে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করতেন। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালে পাশের ভাদেরটেক গ্রামের দুই শ্রমিককে যাদুকাটা নদীর লাউড়েরগড় এলাকায় দিয়ে আসেন। পরে বিকেলে তাদের আবার লাউড়েরগড় থেকে ভাদেরটেক বাজারে পৌঁছে দেন। এরপর তিনি রাতে ভাদেরটেক বাজারের একটি রেস্টুরেন্টে বসে নাশতা খান। বাজারের লোকজন তাকে নাশতা করতেও দেখেন। কিন্তু রাতে আর তিনি বাড়ি ফিরে যাননি। পরিবারের লোকজন তার মোবাইল ফোন বন্ধ পান। সকালে ভাদেরটেক গ্রামের ওই শ্রমিকরা তাকে ফোন করে না পেয়ে বাজারে গিয়ে তার মোটরসাইকেলটি দেখতে পান।
এদিকে স্থানীয়রা বুধবার সকালে ভাদেরটেক বাজার থেকে এক কিলোমিটার দূরের মণিপুরী ঘাট যাওয়ার রাস্তায় হাওরের জমিতে তার গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়।
ভাদেরটেক গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হাই জানান, আনছর আলী মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করত। মঙ্গলবার রাতে তাকে বাজারে নাশতা করতে দেখেছেন অনেকেই। বুধবার সকালে গ্রামের পূর্ব দিকে হাওরের তার গলাকাটা লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। তার মোটরসাইকেলটি নাকি বাজারেই পড়ে আছে।
নিহতের মামা দ্বীন ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাতে ঝড়ের আগে কোনো এক সময়ে আনছর আলীকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে হাওরের জমিতে ফেলে রেখেছে। তার গলায় ছুরিকাঘাতের পাশাপাশি পেছোনে আঘাতের ক্ষত ছিল।
এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে জানান, খবর পেয়ে আনছর আলীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বাজার থেকে এক কিলোটার দূরে নিয়ে তাকে গলা কেটে খুন করা হয়েছে। তার গলায় ও পেছনে আঘাতের চিহ্ন ছিল। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের সঙ্গে এলাকার কারও কোনো বিরোধ ছিল বলে জানা যায়নি।