অটোরিকশা ছিনতাই করতেই ৩ খুন, ধরা পড়ল ‘সিরিয়াল কিলার’

অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য চালকদের টার্গেট করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে আব্দুল ওয়াদুদ মানিক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। কুমিল্লার নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ ও লাকসামে তিন অটোরিকশাচালক হত্যার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। এ কারণে তাকে ‘সিরিয়াল কিলার’ হিসেবে উল্লেখ করেছে জেলা পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর।
আব্দুল ওয়াদুদ মূলত অটোরিকশাচালকদের টার্গেট করতেন। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পর চালকদের হত্যা করে মরদেহ গুম করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোটের আতিয়াবাড়ী এলাকায় একটি অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহটি অটোরিকশাচালক মেহেদী (১৮) বলে শনাক্ত হয়। এ ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানায় হত্যা মামলা করা হয়। মেহেদী হত্যার রহস্য উদঘাটনে থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আব্দুল ওয়াদুদ মানিক, শাহেল, ফাহিম ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মেহেদীকে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা জানান বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশ আরও জানায়, আব্দুল ওয়াদুদ মানিক ও সেলিম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেহেদী হত্যা মামলার তদন্তের সময় আব্দুল ওয়াদুদের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, মোবাইল ফোনটি ২৪ জুলাই থেকে নিখোঁজ অটোরিকশাচালক আরমান হোসেনের (১৫)। আরমান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে তার মামা অপহরণের মামলা করেন। তদন্তের একপর্যায়ে আরমানের চালানো অটোরিকশার কাটা বডি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে ওই তিনজন জানান, তারা অটোরিকশাটি আব্দুল ওয়াদুদ মানিক ও সেলিমের কাছ থেকে পেয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মানিক ও সেলিমকে আরমান অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। পরে তারা আরমানকে হত্যার কথা জানান বলে পুলিশ জানায়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আরমানকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে মনোহরগঞ্জের বিনয়ঘর এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর ওই এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করে মনোহরগঞ্জ থানার পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর আব্দুল ওয়াদুদ মানিক আরমান হোসেনকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, ২০২৪ সালের একটি অটোরিকশাচালক হত্যার মামলাতেও আব্দুল ওয়াদুদ মানিকের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই বছরের ২ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শাহজাহান সাইমন (১৭) নামে এক অটোরিকশাচালককে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে তার মরদেহ লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানার একটি পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় ওই বছরের সেপ্টেম্বরে লাকসাম থানায় হত্যা মামলা হয়। ওই মামলার তদন্তে আব্দুল ওয়াদুদ মানিককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি শাহজাহান সাইমনকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
পুলিশ বলছে, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য চালকদের টার্গেট করতেন আব্দুল ওয়াদুদ মানিক। মেহেদী, আরমান ও শাহজাহান সাইমন হত্যার ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং ঘটনার পেছনে আরও কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


