Advertisement

মাদারীপুরে দেশি মাছের আকাল, লাফিয়ে বাড়ছে দাম

এশিয়া পোস্ট নিউজ, মাদারীপুর
মাদারীপুরে দেশি মাছের আকাল, লাফিয়ে বাড়ছে দাম
মাছের আড়ৎ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

মাদারীপুরের পাইকারি ও খুচরা বাজারে দেশি মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে নদ-নদী ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় আড়তগুলোতে সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। ফলে রুই-কাতলা থেকে শুরু করে টেংরা-পাবদার মতো জনপ্রিয় দেশি মাছের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় তাদের নাভিশ্বাস তুলেছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে সরেজমিনে পুরান বাজার ও ইটেরপুল পাইকারি মাছের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, পদ্মা ও আশপাশের নদ-নদী থেকে সামান্য কিছু মাছ এলেও পুকুর, বিল ও জলাশয়ের দেশি মাছের সরবরাহ আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। সরবরাহ কম থাকায় ভোর থেকেই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে রুই, কাতলা, বোয়াল, শোল, টেংরা, পাবদা, কৈ ও শিংসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে জেলার খুচরা বাজারগুলোতেও।

মাছ কিনতে আসা সদর উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল কাদের মোল্লা বলেন, কয়েক দিন আগেও যে মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় কিনেছি, এখন সেটির দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। সংসারের সব জিনিসের দামই তো বাড়ছে, তার ওপর মাছের এমন চড়া দাম সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একই বাজারের ক্রেতা রোকসানা বেগম বলেন, বাচ্চাদের জন্য সপ্তাহে কয়েক দিন মাছ কিনতাম। এখন বাজেটের কারণে আগের মতো কেনা যাচ্ছে না। দাম কমলে সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি হতো।

মৎস্য ব্যবসায়ীদের দাবি, নদ-নদীতে অবাধে কারেন্ট জাল ব্যবহারের কারণে দেশি মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক বিল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে প্রাকৃতিকভাবে মাছের উৎপাদনও কমে আসছে। অন্যদিকে মানুষের খাদ্যতালিকায় দেশি মাছের চাহিদা আগের মতোই তুঙ্গে। ফলে চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দাম হুহু করে বাড়ছে।

পুরান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী মো. রফিক শেখ বলেন, আমরা ইচ্ছে করে দাম বাড়াই না। আড়তেই মাছ কম আসছে। যতটুকু আসে, তা-ও বেশি দামে কিনতে হয়। এ ছাড়া পরিবহন খরচ, বরফ ও শ্রমিকের মজুরিও বেড়েছে। সব মিলিয়ে বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আরেক ব্যবসায়ী জসিম হাওলাদার জানান, দেশি মাছের চাহিদা সবসময়ই বেশি। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ কম থাকায় দামও বেড়েছে। সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আশা করি দামও কিছুটা কমে আসবে।

পুরান বাজার মাছ আড়তের ইজারাদার মো. কামাল হোসেন বলেন, আড়তে কোনো কৃত্রিম সংকট নেই। মূল সমস্যা হলো দেশি মাছের সরবরাহ কমে যাওয়া। নদী ও বিল থেকে আগের মতো মাছ আসছে না। প্রশাসন যদি অবৈধ কারেন্ট জালের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে, তবে দেশি মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং বাজারও স্থিতিশীল হবে।