Advertisement

রংপুরে পশুর হাটের ইজারা বিএনপি-জামায়াত-আ.লীগ নেতাদের হাতে

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রংপুর
রংপুরে পশুর হাটের ইজারা বিএনপি-জামায়াত-আ.লীগ নেতাদের হাতে
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল মন্থনা হাট। ছবি : এশিয়া পোস্ট

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে জমজমাট হয়ে উঠেছে রংপুরের পশুর হাটগুলো। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠেছে পশু কেনাবেচা। তবে এসব হাটের অধিকাংশই ইজারা পেয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। পাশাপাশি প্রতিযোগিতার দৌড়ে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও।

Advertisement

রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর জেলার ৮টি উপজেলায় পশু কেনাবেচার স্থায়ী হাট ৩২টি ও অস্থায়ী ২৯টি হাটসহ সর্বমোট ৬১টি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে পীরগাছা উপজেলায় ৮টি পশুর হাট, রংপুর সদরে ১১টি, বদরগঞ্জে ১০টি, তারাগঞ্জে ৫টি, গঙ্গাচড়ায় ৬টি, কাউনিয়ায় ৬টি, মিঠাপুকুরে ৮টি ও পীরগঞ্জে ৭টি পশুর হাট রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার সবচেয়ে বড় পশুর হাট পাওটানাহাট। এটি ইজারা নিয়েছেন পীরগাছার ছাওলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক আব্দুল বারী জুলফিকার। এই উপজেলার দেউতিহাটের ইজারা পেয়েছেন উপজেলার পারুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন।

এভাবে রংপুর জেলার ২৩টি হাটের ইজারাদারের রাজনৈতিক পরিচয় পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশ হাটের ইজারা পেয়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।

শুধু বিএনপির নেতাকর্মীই নন, কিছু সংখ্যক হাটের ইজারার তালিকায় রয়েছেন জামায়াত ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মিঠাপুকুর উপজেলার বৈরাতী হাটের ইজারা পেয়েছেন সাইফুল ইসলাম ও আবেদ আলী। তারা দুজনেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া শঠিবাড়ি হাটের ইজারাদার আবু নুর হক প্রধান ও নুরুল ইসলাম লালন প্রামাণিক দুজনেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একই উপজেলার জায়গীর হাটের ইজারা পেয়েছেন রংপুর-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের ভাতিজা কাওছার।

রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন এশিয়া পোস্টকে জানান, রংপুর জেলায় সব কোরবানির পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে যথাযথ সময়ে। আলাদা করে কোনো হাট ইজারা দেওয়া হয়নি। শুধু কাউনিয়া উপজেলায় আলাদা পশুর হাট ইজারা দেওয়ার একটি প্রস্তাব এসেছে; যা এখনো অনুমোদন হয়নি।

তিনি আরও বলেন, হাট ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর আমি রংপুর জেলায় যোগদান করেছি। ইজারা কার্যক্রম ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে ইউএনওরা পরিচালনা করেছেন। সে সময় কোনো দল বা কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে আলাদা সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, আমার জানা নেই। সে সময় অধিকাংশ ইউএনও বদলি হয়ে গেছেন। তারপরও আমি রংপুরের ৬১টি পশুর হাটের খোঁজ নেব। কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে পশুর হাট থেকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবার রংপুর জেলায় ২ লাখ ২৬ হাজার ৯৯৬টি পশুর চাহিদার বিপরীতে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯১টি পশু রয়েছে। উদ্বৃত্ত রয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৯৫টি পশু।

জেলার বাণিজ্যিকভাবে পালনকারী ২৫ হাজার ৭২৩ খামারি এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। এবার হাটে গিয়ে পশু কেনার পাশাপাশি অনলাইনেও ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন তারা। অনেকে নিজস্ব খামার থেকেই সরাসরি পশু বিক্রি করছেন। দেশি ও সংকর জাতের পশুর চাহিদা বেশি থাকায় বৈজ্ঞানিক উপায়ে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে পশুগুলোকে মোটাতাজা করা হয়েছে।

নগরের জুম্মাপাড়া এলাকার খামারি লিংকন মিয়া জানান, পশুখাদ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এবার লালন-পালন খরচ গতবারের চেয়ে অনেক বেশি হয়েছে। যদি ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ ঠেকানো যায়, তবেই ন্যায্য দাম পাওয়া যাবে।

মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জসহ কয়েকটি উপজেলার খামারিরা জানান, তারা ইতোমধ্যে পশু বিক্রি শুরু করেছেন এবং পুরোদমে হাটগুলোতে পশু তোলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে রংপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ নাজমুল হুদা এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘রংপুরে উদ্বৃত্ত প্রায় দেড় লাখ পশু দেশের অন্যান্য বিভাগের চাহিদা মেটাবে। খামারিরা যাতে সঠিক মূল্য পান এবং নির্বিঘ্নে পশু বিক্রি করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ ছাড়া জেলার ৬১টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশু হাটে ৪১টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।