logo

যুবককে থাপ্পড় দেওয়া সেই ইউএনওর বিরুদ্ধে আছে দুর্নীতির অভিযোগ

যুবককে থাপ্পড় দেওয়া সেই ইউএনওর বিরুদ্ধে আছে দুর্নীতির অভিযোগ

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহানের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একটি ফিলিং স্টেশেনে এক যুবককে থাপ্পড় দেওয়ার পর এবার লাঠি হাতে পায়চারি করতে দেখা গেল তাকে। ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

ইউএনও শামীমা নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়লেও কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে আগেও বিতর্কিত হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে আছে দুর্নীতির অভিযোগ। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় অভিযুক্ত।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার চাপারহাট বাজারের লুবানা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা এক গ্যারেজ কর্মচারীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ ইউএনও শামীমার বিরুদ্ধে। অন্যের ফুয়েল কার্ড নিয়ে তেল নিতে এসে ইউএনওর হাতে লাঞ্ছিত হন ওই যুবক। ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় সমালোচনা।

ওই ঘটনার রেশ না কাটতেই ইউএনও শামীমার লাঠি হাতে পায়চারি করার ভিডিও সামনে এসছে। জানা গেছে, এই ঘটনা মঙ্গলবারের (২১ এপ্রিল)। উপজেলার ভুল্যারহাট এলাকায় অবস্থিত মোজাহার ফিলিং স্টেশনে তিনি লাঠি হাতে নিয়ে তদারকি করেন।

এশিয়া পোস্টের অনুসন্ধান বলছে–নিজের কর্মকাণ্ডে আগের কর্মস্থল জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় বিতর্কিত ছিলেন শামীমা আক্তার জাহান। কালাই উপজেলায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর একটি প্রকল্পে ৫৫টি ভুয়া শিক্ষাকেন্দ্র দেখিয়ে তিন কোটি ৫৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলমান রয়েছে (মামলা নং-৪)।

গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর দুদকের নওগাঁ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। যাচাই-ছাড়া ভুয়া নথিপত্রে স্বাক্ষর করে তিনি এই টাকা লোপাটে সহায়তা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কালীগঞ্জে যোগদানের পর থেকে হাটবাজার ইজারা ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দে তার বিরুদ্ধে ‘সমঝোতার’ অভিযোগ তুলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধি।

মামলার বাদী দুদকের নওগাঁ সমন্বিত কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক আল মামুন। তিনি এশিয়া পোস্টকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার কপি

কালীগঞ্জ উপজেলায় ইউএনওর হাতে হেনস্তার শিকার ওই যুবক বলেন, আমি গ্যারেজ মেকানিক। মালিকের কথায় অসুস্থ এক শিক্ষকের কার্ড ও টাকা নিয়ে তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। ইউএনও কার্ড চেক করার সময় কোনো কথা না বলেই আমাকে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান বুধবার বলেছিলেন, আমি শুধু তার গাড়ির চাবি নিয়েছিলাম, গায়ে হাত তুলিনি। সম্ভবত তার কাছে সঠিক কার্ড ছিল না। নিয়ম না মেনে লাইনে দাঁড়ানোর কারণে চাবি নিয়ে পরে অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। তার অভিভাবক এলে চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার লাঠি নিয়ে পায়চারি এবং গত বছর দুর্নীতির অভিযোগে মামলার বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার একাধিকবার কল দিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন শুনে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাশেদুল হক প্রধান জানান, ওই ইউএনওর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।