Advertisement

তিন দিনের ছুটি নিয়ে সাড়ে তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান শিক্ষক

এশিয়া পোস্ট নিউজ, লক্ষ্মীপুর
তিন দিনের ছুটি নিয়ে সাড়ে তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রধান শিক্ষক
প্রধান শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমান। ছবি : সংগৃহীত

মাত্র তিন দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সাড়ে তিন বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত লক্ষ্মীপুরের রায়পুর সরকারি মার্চেন্টস একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমান। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমন ও দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকায় বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক পাঠদান মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে।

Advertisement

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২২ আগস্ট তিন দিনের ছুটি নেন তিনি। পরদিন ২৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন প্রধান শিক্ষক মো. জিল্লুর রহমান। ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি আর কর্মস্থলে ফেরেননি। এর আগেও ২০২১ সালে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া দুই মাসের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সাড়ে পাঁচ মাস পর দেশে ফেরেন তিনি। সে সময় অনিয়ম সত্ত্বেও দেশে ফিরে সরকারি বেতন-ভাতাও উত্তোলন করেছিলেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানটির একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক জানান, প্রধান শিক্ষক অনুপস্থিত থাকায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দাপ্তরিক কাজসহ শৃঙ্খলা রক্ষায় জটিলতা দেখা দিয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব পালন করলেও স্থায়ী প্রধানের অবর্তমানে পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর নীতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তার দীর্ঘ অনুপস্থিতির বিষয়টি উল্লেখ করে ব্যবস্থা নিতে ২০২২ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অঞ্জন দাশ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) চিঠি পাঠান। তবে দীর্ঘদিন পার হলেও তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা ফারুকী বলেন, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তিনি কবে ফিরবেন তাও অনিশ্চিত, তবে পদটি এখনও শূন্য ঘোষণা করা হয়নি।

বর্তমানে মো. জিল্লুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করায় তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউসার জানান, সরকারি চাকরির বিধান অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া বিদেশ গমনের সুযোগ নেই। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র মিত্র বলেন, কোনো শিক্ষক দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তার পদ শূন্য ঘোষণা করার ক্ষমতা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নেই। এ ক্ষমতা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। ওই শিক্ষকের অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি আমি আজই জানতে পেরেছি।

তিনি আরও বলেন, এর আগে এ বিষয়ে যে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো সরাসরি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট সচিব বিষয়টি পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী তার পদ শূন্য ঘোষণা বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।