সরকারি ডিপোতে হিসাববহির্ভূত তেল মজুত

জ্বালানি খাতের অস্থিরতার মধ্যে সরকারি ডিপোতে অবৈধভাবে তেল মজুতের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থা যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের মোংলা অয়েল ইনস্টলেশনে (ডিপো) যৌথ বাহিনীর অভিযানে হিসাববহির্ভূত ডিজেল মজুত শনাক্ত করা হয়। এই ঘটনায় ডিপোটি থেকে তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাত সাড়ে ১২টার দিকে জেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, এনএসআই ও পুলিশের একটি যৌথ দল এই অভিযান শুরু করে। অভিযানের খবর পেয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন ডিপো ম্যানেজার (অপারেশন) আল আমিন খান। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন।
অভিযান পরিচালনাকারী দল ডিপোর তিনটি ট্যাংকে তল্লাশি চালিয়ে নথিপত্রের সঙ্গে মজুত তেলের গরমিল খুঁজে পান। ১ নম্বর ট্যাংকে স্টেটমেন্টের চেয়ে ৯৩২ লিটার ডিজেল বেশি পাওয়া যায়। ৯ নম্বর ট্যাংকে ১২ হাজার ৮১৮ লিটার ডিজেল অতিরিক্ত মজুত ছিল। ১৪ নম্বর ট্যাংকে ১ হাজার ১৩৭ লিটার ডিজেল কম পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে ডিপোটিতে মোট ১২ হাজার ৬১৩ লিটার অতিরিক্ত ডিজেল পাওয়া গেছে।
যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমীর মাসুদ জানান, শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বর্তমানে ডিপোটি থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। ম্যানেজার আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, তেল পাচারের প্রস্তুতির খবর পেয়েই আমরা রাতভর অভিযান পরিচালনা করি। তিনটি ট্যাংকে পরিমাণের এই অসংগতি প্রমাণ করে, এখানে বড় ধরনের অনিয়ম চলছিল। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।