logo
Advertisement

ইউটিউব দেখে তরমুজ চাষ, ভাগ্য বদলের স্বপ্ন অসিতের

ইউটিউব দেখে তরমুজ চাষ, ভাগ্য বদলের স্বপ্ন অসিতের
মাচা পদ্ধতিতে চাষ করা হলুদ তরমুজ ক্ষেতে অসিত বিশ্বাস। ছবি : এশিয়া পোস্ট

সংসারের অভাব থামিয়ে দিয়েছিল পড়াশোনা। চোখে থাকা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্নও একসময় ফিকে হয়ে যায়। মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোনোর পরই বই-খাতার সঙ্গে অসিত বিশ্বাসের সম্পর্ক থেমে যায়। এরপর পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে শুরু হয় জীবনের কঠিন অধ্যায়। তবে স্বপ্ন দেখা থামাননি তিনি। ইউটিউব দেখে কৃষিকাজের নতুন কৌশল শেখার পর সেই স্বপ্নের পথ খুঁজে পান তরমুজের ক্ষেতে।

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার ডুটকুরা গ্রামের অমর কৃষ্ণ বিশ্বাসের ছেলে অসিত বিশ্বাস (৩৫)। ছয় সদস্যের পরিবারের এই যুবক একসময় বেকার ছিলেন। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি নিজের কর্মসংস্থানের জন্য কিছু একটা করার চেষ্টা করছিলেন। এরই মধ্যে ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন ভিডিও দেখে অফ-সিজনে তরমুজ চাষের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়।

প্রায় তিন বছর আগে পাঁচ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে অফ-সিজনে তরমুজ চাষ শুরু করেন অসিত। প্রথম বছরেই লোকসানের মুখে পড়তে হয় তাকে। এতে কিছুটা হতাশ হলেও হাল ছাড়েননি। পরে কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে আবারও তরমুজ চাষে মনোযোগ দেন। ধীরে ধীরে সাফল্যও আসতে শুরু করে।

এ বছর ২০৮ শতক জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন তিনি। জমিতে রয়েছে ‘তৃপ্তি’ ও ‘ব্ল্যাক বেবি’ জাতের তরমুজ। চাষে এখন পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা ও ভালো ফলন হলে এ বছর ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

অসিত বিশ্বাস বলেন, অভাবের কারণে মাধ্যমিকের পর আর পড়াশোনা করতে পারিনি। পরিবারের জন্য কিছু করার ইচ্ছা সবসময় ছিল। ইউটিউব দেখে তরমুজ চাষের বিষয়ে জানতে পারি। প্রথমবার চাষ করে লোকসান হয়েছিল। পরে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে আবার শুরু করি। এখন ভালো ফলন হলে লাভের আশা করছি। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে তরমুজ চাষ করতে চাই।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিলন বিশ্বাস বলেন, অসিত অফ-সিজনে তরমুজ চাষে আগ্রহী—এমন খবর পাওয়ার পর কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়। তাকে উচ্চফলনশীল ‘তৃপ্তি’ ও ‘ব্ল্যাক বেবি’ জাতের বীজ এবং প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সঠিক পরিচর্যা করলে সে ভালো ফলন পাবে বলে আশা করছি।