logo

এবার বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযানে বিএনপি নেতার মারধরের ভিডিও ভাইরাল


এবার বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযানে বিএনপি নেতার মারধরের ভিডিও ভাইরাল
বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় নিজ হাতে মারধর করছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনকে। এ নিয়ে দেশব্যাপী যখন আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক সেই মুহূর্তে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে নিজ উদ্যোগে সহযোগীদের নিয়ে নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন তিনি। এ সময় তিনি মাদকসেবীদের মারধর এবং পাইপ দিয়ে পেটাতে থাকেন।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের এই মাদকবিরোধী অভিযানের ৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নেটিজেনদের কেউ কেউ এই অভিযানকে সাধুবাদ জানালেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ব্যাপারে সমালোচনাও করছেন অনেকে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার টিবি হাসপাতাল মাঠে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুকের নেতৃত্বে কয়েকজন মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছেন। সেখানে মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব নাভিদুর রহমান তুষারসহ দলীয় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী তার সঙ্গে ছিলেন। তারা প্রথমে দুজনকে এবং পরে আরও দুজনকে আটক করেন। পরবর্তীতে মনিরুজ্জামান খান ফারুক তাদের চড়থাপ্পড় ও পাইপ দিয়ে পেটান। তবে এই অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক বলেন, মাদকের উৎপাতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তাই নিরুপায় হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছি। এলাকায় কোনো মাদকের ঠাঁই হবে না।

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে নগরীর আমানতগঞ্জ টিবি হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতাল এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৩-৪ জনকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

পুলিশের কাছে সোপর্দ করলে আসামিরা সহজেই ছাড়া পেয়ে যায় এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, তাই আপাতত সতর্ক করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ সময় চড়থাপ্পড় মারার বিষয়ে তিনি বলেন, সন্তানকেও তো শাসন করা যায়, সেই হিসেবেই তাদের চড় মেরেছি।

এদিকে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকের এই মাদকবিরোধী অভিযান সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, এই অভিযান সম্পর্কে আমাদের আগে বা পরে কিছুই জানানো হয়নি। তবে ওই এলাকায় আমাদের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। আমি মনে করি, মাদকের বিরুদ্ধে সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের এগিয়ে আসা উচিত।

পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী বা সেবনকারীদের ছেড়ে দেয় বিএনপি নেতার এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত মতামত, তিনি যা খুশি বলতেই পারেন।

ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন গত শনিবার বিকেলে নির্বাচনি এলাকার গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমেছিলেন। সেই অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয় তাঁকে।