logo
Advertisement

কিশোরগঞ্জে শিয়ালের কামড়ে আহত অর্ধশতাধিক

কিশোরগঞ্জে শিয়ালের কামড়ে আহত অর্ধশতাধিক
ছবি: এশিয়া পোস্ট গ্রাফিক্স

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী ও বাজিতপুর উপজেলার ছয়টি গ্রামে গত দুই দিনে এক পাগলা শিয়ালের কামড়ে নারী-পুরুষসহ অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শিয়ালটির আক্রমণে অন্তত তিনটি ছাগল ও দুটি গরুও আহত হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত ব্যক্তিদের মধ্যে কটিয়াদীতে ১৮ জন এবং বাজিতপুরে ৩৫ জন রয়েছেন। তাদের কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আহতদের ২০-২৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন।

কটিয়াদীর মুমুরদিয়া ইউনিয়নের পাড়া মন্ডলভোগ গ্রামে আহতদের মধ্যে রয়েছেন ছকিনা বেগম (৫০), শামসুন্নাহার (৪৫), হারিছা বেগম (৩৪), পারভীন আক্তার (৩০), জোছনা আক্তার (৩৮), জরিনা বেগম (৩৭), সবুজ মিয়া (৫৫), কাশেম আলী (৪৫) ও বোরহান মিয়া (৩৮)।

অন্যদিকে বাজিতপুরে আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাইম মিয়া (২৫), উসমান মিয়া (৩৫), টেনাই মিয়া (৪৫), ইমন মিয়া (২৫), রুকসানা (৩৫), সখিনা খাতুন (৩৫), আকলিমা খাতুন (৪০), আনোয়ারা মিয়া (৫০) ও জামাল মিয়া (৪৫)।

বোয়ালিয়া তাহেরা নূর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক আবু সিদ্দিক জানান, চান্দপুর ইউনিয়নের পাড়া মন্ডলভোগ গ্রামে শেয়ালটি প্রথমে দুটি গরুকে কামড় দেয়। গরু বাঁচাতে এগিয়ে গেলে গৃহপালিত পশুগুলোর মালিকদের ওপরও হামলা চালায় শিয়ালটি। পরে আশপাশের অন্তত নয়জন নারী-পুরুষকে কামড়ে আহত করে।

কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. শাহরিয়ার জানান, গত দুই দিনে শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে পাঁচজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের রেবিজ প্রতিরোধক টিকাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে আসা রোগীদের মাধ্যমে জানা গেছে—কটিয়াদীতে মোট ২০-২৫ জন আহত হয়েছেন এবং অনেকেই অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, কটিয়াদীর মন্ডলভোগ ও বাজিতপুরের সরারচর এলাকা দুটি পাশাপাশি হওয়ায় একই শেয়াল দুই এলাকাতেই আক্রমণ চালিয়েছে।

বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্য কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার ১৫-২০ জন শিয়ালের কামড়ে আক্রান্ত রোগী জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে বুধবার সেখানে নতুন কোনো রোগী আসেননি।

এ ঘটনার পর দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, পাগলা শিয়ালটিকে এখনও শনাক্ত বা ধরা সম্ভব হয়নি। ফলে চরম সতর্ক অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসী।

এ বিষয়ে জানতে বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহীদুল্লাহ বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।