logo

মা-বাবার পর এবার প্রতিবেশী বিধবাকে মারধরের অভিযোগ, যুবদল নেতাকে আবারও বহিষ্কার

মা-বাবার পর এবার প্রতিবেশী বিধবাকে মারধরের অভিযোগ, যুবদল নেতাকে আবারও বহিষ্কার
বহিষ্কৃত যুবদল নেতা মোজাম্মেল হক সোহেল। । ছবি : ফেসবুক থেকে নেওয়া

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর আবারও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক সোহেলকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে ফের বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর আবারও সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে মোজাম্মেল হক সোহেলকে দল থেকে বহিস্কার করা হলো। বহিস্কৃত ব্যক্তির কোনো কর্মকাণ্ডের দায়দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এজমল হোসেন পাইলট আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোজাম্মেল হকের বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বহিষ্কৃত মোজাম্মেল হক সোহেল উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাতে নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. আনোয়ারুল হক বারহাট্টা সদরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। এ সময় অর্চনা রানী দাস নামে এক বিধবা নারী তার পায়ে পড়ে কান্নাকাটি করে মোজাম্মেল হক সোহেলের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ জানান। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরই মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে এমন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় কেন্দ্রীয় যুবদল।

ভুক্তভোগী অর্চনা রানী দাস বারহাট্টা উপজেলা সদরের গুহিয়ালা কোর্ট রোডের মৃত উচিন্দ্র চন্দ্র দাসের স্ত্রী এবং মোজাম্মেল হক সোহেলের প্রতিবেশী।

এর আগে, গত ৪ জুলাই বাবা-মাকে মারধরের অভিযোগে মোজাম্মেল হককে দল থেকে প্রথমবার বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন তদবিরের পাশাপাশি বাবা-মাকে সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে সুপারিশ করার পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ জুলাই তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।

বহিষ্কারের বিষয়ে মোজাম্মেল হক সোহেল বলেন, আমি প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের শিকার। আগেরবারও প্রতিপক্ষ আমাকে ফাঁসিয়েছিল। আমি বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে, জমি লিখে নেওয়ার জন্য মারধরের কী দরকার? তাদের সবকিছুই তো আমার। আমার বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত এবং নিয়মিত কেমোথেরাপি নিচ্ছেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি হয়তো নিজের অজান্তে কিছু বলেছেন, যা প্রতিপক্ষ বাড়িয়ে প্রচার করেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশী অর্চনা রানীর ভাবিকে সাত বছর আগে এক লাখ টাকা ধার দিয়েছিলাম, যা আজও ফেরত পাইনি। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে সামান্য তর্কবিতর্ক হয়েছে, যা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু প্রতিপক্ষের লোকজন ওই নারীকে প্ররোচিত করে এমপির কাছে হাজির করে মারধরের মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করিয়েছে, যা পুরোটাই মিথ্যা ও বানোয়াট।