পুলিশের কাছে লিখিত জবানবন্দি দিয়েছেন আহত ফজলু

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর নিজে গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করা কর্মচারী ফজলুল রহমান ফজলুর শারীরিক অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হোসেন ইমাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডা. হোসেন ইমাম বলেন, বুধবার (৪ মার্চ) ফজলুর হরমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। শ্বাসনালি কাটা অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার পর এখন আশঙ্কামুক্ত। গত রাতেই পুলিশের কাছে লিখিত জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। তার কাছে কিছু জানতে চাইলে লিখে উত্তর দিচ্ছেন। তার পরিবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে চায়। সে কারণে চিকিৎসার সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে রেফার্ড করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ফজলুর রহমান যেহেতু পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন, সেজন্য এখন পুলিশ ও তার পরিবার তাকে ঢাকায় বা অন্য কোথাও নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে তিনি এখন ঝুঁকিমুক্ত।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, আমি শুনেছি ফজলুর হরমানকে রেফার্ড করা হয়েছে। তবে এ বিষয়টি আমি এখনো নিশ্চিত না। যদি তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক অন্যত্র রেফার্ড করেন, তবে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হবে। সেটা ঢাকা হোক বা রাজশাহী। যেহেতু তিনি পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাকে যেখানেই নেওয়া হোক সেখানেই পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা নিতে হবে।
তিনি জানান, গত রাতে ফজলুর রহমান পুলিশের কাছে লিখিত স্টেটমেন্ট দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে এখন কিছু প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে নিজ কক্ষে অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমান। পরে তিনি নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় আজ সকালে নিহত শিক্ষিকা অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান বাদী হয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় অভিযোগ করেন। অভিযুক্তরা হলেন—কর্মচারী ফজলুর রহমান, সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক মো. হাবিবুর রহমান।
এদিকে আজ জোহরের পর কুষ্টিয়া শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আসমা সাদিয়া রুনার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তার মরদেহ কুষ্টিয়া পৌর গোরস্তানে দাফন করা হয়েছে।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত আসমা সাদিয়া রুনার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।