বিদেশি পণ্যের চাপেও ঈদে জমজমাট পিরোজপুরের কামারপাড়া

পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তবে পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলার কামারপাড়াগুলোতে যেন থামছেই না টুংটাং শব্দ। জেলার প্রতিটি কামারপাড়ায় বেড়েছে শেষ মুহূর্তের কর্মব্যস্ততা।
পশু কোরবানির জন্য প্রয়োজনীয় দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতি ও কুড়াল তৈরি, মেরামত ও শান দেওয়ার কাজে এখন দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। কামারপাড়ায় ঢুকলেই কানে ভেসে আসে হাতুড়ি আর লোহা পেটানোর টুংটাং শব্দ।
পিরোজপুর সদর, জিয়ানগর, ভান্ডারিয়া, নাজিরপুরসহ জেলার সাতটি উপজেলার কামারপাড়ায় এখন উপচে পড়া ভিড়। কেউ পুরোনো দা-বঁটি শান দিতে এসেছেন, কেউ-বা নতুন ছুরি বা চাপাতি কিনতে। বিশেষ করে যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশু জবাই করেন, তারা জবাইয়ের ছুরি ও চামড়া ছাড়ানোর চাকু ধারালো করতে ভিড় করছেন কামারদের দোকানে।
কামাররা জানান, বছরের বেশির ভাগ সময় কাজ কম থাকলেও কোরবানির ঈদকে ঘিরে তাদের ব্যবসায় প্রাণ ফিরে আসে। ঈদের আগে এই কয়েক সপ্তাহই তাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়।
জেলার জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের কামারপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, কামাররা আগুনের ভাটিতে লোহা গরম করে ঘাম ঝরিয়ে তৈরি করছেন দা, বঁটি, চাপাতিসহ বিভিন্ন মাংস কাটার সরঞ্জাম। ক্রেতারাও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে ভিড় করছেন দোকানগুলোতে।
মাংস কাটার সরঞ্জাম কিনতে আসা ক্রেতা সাইফুল, রেজাউল ও আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে বিভিন্ন ধরনের দা-বঁটি পাওয়া গেলেও এখানকার কামারদের তৈরি জিনিস অনেক বেশি টেকসই ও মজবুত। কাজের মানও ভালো।’
ইন্দুরকানী ইউনিয়নের দক্ষ কামার কবির হোসেন বলেন, ‘কোরবানির ঈদ সামনে রেখে আগেভাগেই দা, ছুরি, কুড়াল ও চাপাতি তৈরি করে রেখেছি। ঈদের সময় প্রচণ্ড ভিড় হয়, তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হয়।’
চন্ডিপুর ইউনিয়নের কামার তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘একটা দা-বঁটি বা ছুরি বানাতে অনেক খরচ হয়। কিন্তু সেই তুলনায় দাম ঠিকমতো পাওয়া যায় না। এখন বিদেশি পণ্য বাজারে আসায় আমাদের বিক্রিতে প্রভাব পড়েছে। তারপরও ঈদকে কেন্দ্র করে বিক্রি অনেক বেড়েছে।’
কামাররা আরও জানান, গত বছরের তুলনায় লোহাসহ কাঁচামালের দাম অনেক বেড়েছে। তারপরও তারা অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন না বলে দাবি করেন। তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ, ঈদ সামনে রেখে কিছু কিছু দোকানে বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে।
বর্তমানে জেলায় প্রতি কেজি দা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০০ টাকা, বটি ও চাপাতি ৬০০ টাকা কেজি দরে। জবাইয়ের ছুরির দাম ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া চামড়া ছাড়ানোর ছুরি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২৫০ টাকায়।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় একসময় হারিয়ে যেতে বসা এই প্রাচীন শিল্পে কোরবানির ঈদ এলেই ফিরে আসে প্রাণচাঞ্চল্য। বছরের অন্য সময় অলসতা থাকলেও ঈদ সামনে রেখে এখন আবারও কর্মচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে এই জেলা।

